দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও বিপুল বিনিয়োগ চুক্তি
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্র তৈরির লক্ষ্যে চার দিনের সরকারি সফর শেষে শুক্রবার ভোরে ঢাকায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইটে টোকিও থেকে রওনা হয়ে রাত ২টা ৪৮ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করলে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। সফরে জাপানি প্রধানমন্ত্রী ও ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের জ্বালানি, অবকাঠামো ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ১ ট্রিলিয়ন জাপানি ইয়েনের (প্রায় ৬.৩ বিলিয়ন ডলার) প্রস্তাবিত বিনিয়োগসহ গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সফরের অংশ হিসেবে মোট ৬টি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি, দুটি প্রকল্প ঋণের অধীনে ৪৬.৫৬ বিলিয়ন ইয়েন (২৯৫.৫ মিলিয়ন ডলার) এবং জেট্রোর মাধ্যমে দুটি দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে আরও ১৭টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
জাপানের বড় শিল্প পরিদর্শন ও ভবিষ্যৎ রোডম্যাপ
টোকিওতে আয়োজিত 'বাংলাদেশ-জাপান ইকোনমিক ফোরাম ডায়ালগ'-এ বক্তব্যকালে প্রধানমন্ত্রী জাপানি কোম্পানিগুলোকে দেশের অটোমোবাইল, উচ্চগতির রেল, লজিস্টিকস ও কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। সফরকালে তিনি টয়োটা মোটর কর্পোরেশনের মোতোমাচি কারখানা, ফুত্তসুতে ‘জেরা’ এলএনজি টার্মিনাল এবং নিতসু লজিস্টিকস হাব সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এছাড়া জাইকা (JICA) ও জেবিআইসি (JBIC)-এর শীর্ষ কর্তাদের পাশাপাশি ইউনিক্লো, মিতসুই ও সুমিতোমো কর্পোরেশনের প্রতিনিধিদের সাথে সফল বৈঠকের মাধ্যমে বাণিজ্য, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে দীর্ঘমেয়াদী ঐকমত্য অর্জিত হয়েছে। উভয় দেশের মধ্যে প্রস্তাবিত ‘ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট’ (ইপিএ) আগামী দিনে ঢাকা মেট্রোরেল, থার্ড টার্মিনাল ও মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দরের মতো প্রকল্পের পর বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।