ঢাকা

"জনগণই ক্ষমতার উৎস": শান্তিপূর্ণ নির্বাচন শেষে জাতির প্রতি প্রধান উপদেষ্টার বার্তা

-
বিকেলে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর প্রধান উপদেষ্টার সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস দেশবাসীকে এই ঐতিহাসিক দিনটির জন্য সাধুবাদ জানান। তিনি মনে করেন, আজকের এই শান্তিপূর্ণ অংশগ্রহণ "নতুন বাংলাদেশের" এক অভূতপূর্ব যাত্রার সূচনা করেছে।

জাতির প্রতি কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন
প্রধান উপদেষ্টা তাঁর বিবৃতিতে উল্লেখ করেন:

স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ: ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি এবং উৎসবমুখর পরিবেশ প্রমাণ করেছে যে এদেশের মানুষ গণতন্ত্রের প্রতি কতটা শ্রদ্ধাশীল।

রাজনৈতিক সৌজন্য: রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল আচরণ এবং প্রার্থীদের সংযম একটি সুস্থ নির্বাচনী সংস্কৃতি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

সাংবিধানিক অধিকার: জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে যে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে, তাকে তিনি গণতন্ত্রের জয় হিসেবে অভিহিত করেন।

সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি ধন্যবাদ
নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি স্তরের কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন:

ইসি ও প্রশাসন: নির্বাচন কমিশন এবং মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনের নিরলস পরিশ্রমের ফলে এই বিশাল আয়োজন সফল হয়েছে।

যৌথ বাহিনী: পুলিশ, সশস্ত্র বাহিনী এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পেশাদারিত্ব ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার কারণে কোনো বড় ধরনের বিঘ্ন ছাড়াই ভোট সম্পন্ন হয়েছে।

পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যম: দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক এবং গণমাধ্যমকর্মীরা নিরপেক্ষভাবে তথ্য প্রচার করে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করেছেন।

সম্প্রীতি ও ঐক্যের আহ্বান
ভোট পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রধান উপদেষ্টা বিশেষ বার্তা দিয়েছেন:

"আমি সব দল ও প্রার্থীদের অনুরোধ করব, ফলাফল যাই হোক না কেন—গণতান্ত্রিক শালীনতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা যেন অটুট থাকে। মতের ভিন্নতা থাকলেও জাতীয় স্বার্থে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।"

আগামীর পথচলা
অধ্যাপক ইউনূস দৃঢ়তার সাথে বলেন, বাংলাদেশ আবারও প্রমাণ করেছে যে জনগণই সব ক্ষমতার উৎস। এই নির্বাচনের মাধ্যমে একটি জবাবদিহিমূলক, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের পথ প্রশস্ত হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাবে।

উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে ভোটাররা সংসদীয় প্রতিনিধির পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় সংস্কারের প্রশ্নে গণভোটেও অংশ নিয়েছেন, যা দেশের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।



কমেন্ট বক্স