ঢাকা

কুমিল্লা-৪ আসনে ভোট পর্ব শেষ, নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিলেন বিএনপি প্রার্থী

-


কুমিল্লা, ১২ ফেব্রুয়ারি – ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনে ভোটগ্রহণের শেষ সময়ে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি–সমর্থিত ও গণ অধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী মো. আ. জসিম উদ্দিন। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে এসে তিনি এ ঘোষণা দেন।

এর আগে সকালে ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পর বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করে জসিম উদ্দিন গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই ভোটগ্রহণ চলছে। তবে দিনশেষে এসে তিনি ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত জানান।

ফেসবুক লাইভে দেওয়া বক্তব্যে জসিম উদ্দিন বলেন, “আজকে আপনারা দেখেছেন, বড়শালঘর, রসুলপুর, ইউসুফপুর, সুবিল, মাশিকারা ও ফতেহপুর ইউনিয়নে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। ব্যালট বাক্স ছিনতাই করা হয়েছে। আমাদের এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। আমাদের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা করা হয়েছে এবং হুমকি দেওয়া হয়েছে। সারা দিন টাকা দিয়ে ভোট কেনার অভিযোগ রয়েছে। এখন শেষ মুহূর্তে এসে তারা নিজেরাই নিজেদের ভোট কাটছে। দেবীদ্বারের জনগণের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আমি বিএনপি সমর্থিত গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী হিসেবে এই নির্বাচন বর্জন করছি।”

এই আসনে ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। এর আগে ঋণখেলাপির অভিযোগে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী প্রার্থিতা হারালে, ৪ ফেব্রুয়ারি গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী জসিম উদ্দিনকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন দেয় বিএনপি।

নির্বাচনের দিন সকাল থেকে দেবীদ্বার উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করেন এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভোট শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার কথা জানানো হয়। তবে বিএনপি–সমর্থিত প্রার্থীর এই অভিযোগ ও নির্বাচন বর্জনের ঘোষণায় আসনটির নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। নির্বাচন কমিশনের নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী ভোটগ্রহণ চলাকালে বা শেষে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিলেও ভোটগ্রহণ ও ফলাফল ঘোষণার প্রক্রিয়া নির্ধারিত নিয়মে চলমান থাকে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভোটগ্রহণের শেষ সময়ে এমন বর্জন ঘোষণা আসনটির ফলাফল এবং সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। এখন নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক অবস্থান ও ফলাফল ঘোষণার দিকে নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের।




কমেন্ট বক্স