হরমুজে মাইন বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত চার তেলবাহী জাহাজ
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সাগরের তলদেশে পুঁতে রাখা মাইনের আঘাতে চারটি তেলবাহী জাহাজে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ও সেনাবাহিনী পৃথক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানায়।
আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাঞ্চলের নির্ধারিত নৌপথের বাইরে দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করার সময় তিনটি তেলবাহী জাহাজ মাইনের আঘাতে বিস্ফোরিত হয়। এতে জাহাজগুলোতে আগুন ধরে যায়। পরে ইরানের সেনাবাহিনী জানায়, প্রণালির পূর্বাঞ্চলের একটি নিষিদ্ধ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় চলাচলের সময় আরও একটি তেলবাহী জাহাজ বিস্ফোরণের শিকার হয়েছে।
ইরানের দাবি, প্রথম তিনটি জাহাজের রাডার ও নৌ-চলাচল শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বন্ধ ছিল। পাশাপাশি আইআরজিসি নৌবাহিনীর দেওয়া সতর্কবার্তাও তারা উপেক্ষা করেছিল। তবে এসব জাহাজের নাম, কোন দেশের পতাকাবাহী এবং বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট সময় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, ওমানের খাসাব উপকূল থেকে প্রায় ২৫ নটিক্যাল মাইল বা ৪৬ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে হরমুজ প্রণালিতে একটি জাহাজে আগুন লাগার খবর পেয়েছে তারা। একই এলাকায় এর আগে আরও দুটি নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনার খবর পাওয়া যায়। এর মধ্যে একটি ঘটনায় আগুনে পুড়ে একটি ঐতিহ্যবাহী আরবীয় নৌযান ডুবে যায়। অন্য ঘটনায় অজ্ঞাত কোনো বস্তু বা ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে একটি তেলবাহী জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
হরমুজ প্রণালিতে মাইন থাকা নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরেই পাল্টাপাল্টি বক্তব্য চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সম্প্রতি দাবি করেছে, জাহাজ চলাচলের প্রধান পথগুলো থেকে সব মাইন অপসারণ করা হয়েছে। তবে ইরানের আইআরজিসি মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি এ দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেন, মাইন সরানোর দাবির পক্ষে স্বাধীন ও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ দিতে হবে।
এদিকে আইআরজিসি দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালির পশ্চিমাঞ্চলে অভিযান চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউএম-১৭০ মডেলের গোয়েন্দা ড্রোন জব্দ করেছে তাদের নৌবাহিনীর ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ইউনিট। তবে এ দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ইরান। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের মোট ব্যবহৃত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে যেকোনো ধরনের সামরিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
সর্বশেষ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালিতে মাইন বিস্ফোরণ, জাহাজে অগ্নিকাণ্ড এবং সামরিক ড্রোন জব্দের পাল্টাপাল্টি দাবিকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।



