
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নিজেই অনেকটা দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে এবং তা জনসাধারণের কাছে স্পষ্টভাবে চিহ্নিত—এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের।
রোববার (১৮ মে) জাতীয় সংসদের এলডি হলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী দলের বৈঠকের মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর ব্রিফিংকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, “দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকরভাবে কাজ করতে দুদকের ওপর নজরদারির জন্য একটি স্বতন্ত্র ‘ওয়াচডগ কাউন্সিল’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছি। এই কাউন্সিলে একটি টাস্কফোর্স থাকবে, যারা দুর্নীতির তদন্ত করবে এবং প্রাথমিক পর্যায়ে জড়িতদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনবে। প্রয়োজনে সরকারি কর্মকর্তাদের সাময়িক বরখাস্ত করাও এই টাস্কফোর্সের সুপারিশে সম্ভব হবে।”
তাহের আরও জানান, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন এ প্রস্তাবের সঙ্গে একমত হয়েছে এবং এ বিষয়ে তারা সুপারিশও করবে।
তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, “ভারতে যখন সোনিয়া গান্ধী ছিলেন কংগ্রেসের সভাপতি, তখন মনমোহন সিং ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এমনকি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও দলের প্রধান নন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টও দলের শীর্ষনেতা নন। এতে রাষ্ট্র ও দলের মধ্যে স্বচ্ছতা ও ভারসাম্য থাকে।”
জামায়াতের পক্ষ থেকে আরও প্রস্তাব এসেছে, একজন ব্যক্তি যেন তার জীবদ্দশায় দুইবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী হতে না পারেন, অর্থাৎ সর্বোচ্চ ১০ বছর।
জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে নেতৃত্ব দেন নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের। সঙ্গে ছিলেন দলের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি এ টি এম মাসুম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, ড. হামিদুর রহমান আযাদ, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সাইফুল আলম খান মিলন, অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ এবং আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
বৈঠক পরিচালনা করেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।