
উত্তরবঙ্গ
সফরের অংশ হিসেবে বুধবার (২১ মে) শিলিগুড়ির
উত্তরকন্যা প্রেক্ষাগৃহে আটটি জেলার প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। বৈঠকে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি এবং রাজ্যে যাতে কোনো সন্ত্রাসী বা সন্দেহভাজন ব্যক্তি
আশ্রয় নিতে না পারে, সে
জন্য পুলিশ প্রশাসনকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন।
মুখ্যমন্ত্রী
বলেন, “সীমান্ত এলাকা অত্যন্ত স্পর্শকাতর। শিলিগুড়ি হলো চিকেন নেক—উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার। তাই এই অঞ্চল নিয়ে বিশেষ সতর্কতা দরকার।” তিনি
জানান, তিনদিনের সফরে তিনি এবং সরকারের প্রধান সচিব বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। একই সঙ্গে পুলিশের টহলের ঘাটতি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আগে পুলিশ একাধিকবার এলাকায় যেত, এখন আর দেখা যায় না। প্রশাসন সক্রিয় থাকলে মানুষও নিরাপদ বোধ করে।”
বিএসএফের
দায়িত্বে থাকলেও রাজ্য পুলিশের দায়িত্ব এড়ানো উচিত নয় বলেও মন্তব্য
করেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি তিনি পাড়ার ক্লাবগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেন কর্মকর্তাদের।
বাইরের
রাজ্য থেকে এসে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার ও আধার কার্ডের
তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ তুলে মমতা ব্যানার্জী বলেন, “আমাদের দলের অনেক সদস্যের সঙ্গেও এরকম হয়েছে। এমন তথ্য ফাঁসের সুযোগ যেন কেউ না পায়। কেউ যেন মিথ্যা পরিচয়ে জনগণের ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নিতে না পারে।”
জেলা
প্রশাসন এবং পুলিশের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “শিলিগুড়ি, দার্জিলিং,
কালিম্পং, কোচবিহার,
উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর—এই জেলাগুলোর চারপাশেই আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে। তাই আপনাদের আরও মনোযোগ দিয়ে কাজ করতে হবে।”
সংবাদমাধ্যমের
একাংশ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে
ভুয়া ও উত্তেজক তথ্য
ছড়ানোর বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিভিন্ন ঘটনার ভুল ছবি বা খবর রাজ্যের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হচ্ছে। রাজস্থানের ছবি বা বাংলাদেশের ঘটনার নাম করে বিভ্রান্তিকর প্রচার চালানো হচ্ছে। প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে হুমকির ভুয়া সংবাদও ছড়ানো হচ্ছে, যা একেবারেই অনুচিত। এতে সীমান্তে উত্তেজনা বাড়ে, সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়ে।”
শেষে
তিনি বলেন, “শান্তি বজায় রাখা আমাদের সবার দায়িত্ব। প্রশাসনের পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা উচিত।”