
ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের কুখ্যাত সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন এবং তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ মোল্লা মাসুদকে গ্রেপ্তার করেছে সেনাবাহিনী। মঙ্গলবার ভোরে কুষ্টিয়া শহরের কালীশংকরপুর এলাকার একটি বাড়িতে গোপন অভিযানে তাদের আটক করা হয়।
অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, চারটি ম্যাগাজিন ও ১০ রাউন্ড গুলি জব্দ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোর ৫টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত কালীশংকরপুরের সোনার বাংলা মসজিদের পাশে অবস্থিত একটি তিনতলা বাড়ি ঘিরে রাখে সেনাবাহিনী। অভিযানে অংশ নেয় অন্তত পাঁচটি সামরিক যান। বাড়িটির নিচতলায় মালিক মীর মহিউদ্দিন বসবাস করেন, আর দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় কয়েকজন ছাত্র মেস হিসেবে থাকতেন।
সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহবুবুল আলম গণমাধ্যমকে জানান, ঢাকার বিশেষ একটি টিম কুষ্টিয়ায় এসে অভিযান পরিচালনা করে এবং আটক দুজনকে রাজধানীতে নিয়ে গেছে।
সুব্রত বাইনকে বলা হয় ঢাকার অপরাধ জগতের ‘গ্যাং কিলিং মাস্টার’। ১৯৮৭ সালে মগবাজারকেন্দ্রিক আন্ডারওয়ার্ল্ডে তার উত্থান ঘটে। এরপর থেকে একাধিক খুন, অস্ত্র ব্যবসা ও কোটি কোটি টাকার চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এক সময় দেশ ছেড়ে পালিয়ে কলকাতায় আত্মগোপনে যান তিনি। ২০০৮ সালে সেখানকার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন এবং পরবর্তী সময়ে জামিনে মুক্ত হয়ে সিঙ্গাপুর, দুবাই ও নেপাল ভ্রমণ করেন। নেপালে পালিয়ে থাকার সময় ২০০৯ সালে ফের গ্রেপ্তার হন, কিন্তু ২০১২ সালে তিনি নাটকীয়ভাবে কারাগার থেকে সুড়ঙ্গ কেটে পালান।
সুব্রত বাইনের বিরুদ্ধে ইন্টারপোল রেড নোটিশ জারি রয়েছে। ভারত ও বাংলাদেশে একাধিকবার তার প্রত্যর্পণ চেষ্টার পরও দীর্ঘদিন তিনি ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন।
১৯৯৭ সালে ঢাকার মিরপুরে এক খুনের ঘটনায় আলোচনায় আসেন মোল্লা মাসুদ। এরপর থেকে তাকে ‘কিলিং মেশিন’ নামে চিহ্নিত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঝালকাঠির সন্তান মাসুদ ঢাকায় সুব্রত বাইনের প্রধান সহযোগী হিসেবে পরিচিত।
২০০৪ সালে ‘ক্রসফায়ার আতঙ্ক’ শুরু হলে তিনি দেশ ছেড়ে পালান। কিন্তু দেশের বাইরে থেকেও চাঁদাবাজি চালিয়ে যান। কলকাতায় অপরাধে জড়ালে সেখানেও গ্রেপ্তার হন তিনি। তার বিরুদ্ধেও রয়েছে আন্তর্জাতিক রেড নোটিশ।
সুব্রত বাইন ও মোল্লা মাসুদের গ্রেপ্তারের খবরে ঢাকার অপরাধ জগতে আলোড়ন তৈরি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, এই অভিযান দীর্ঘদিনের অনুসন্ধান ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের একটি বড় নেটওয়ার্ক ভেঙে পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।