
অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দমন–পীড়ন, হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞকে ‘গণহত্যার অর্থনীতি’ আখ্যা দিয়ে দেশটির সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক ও আর্থিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার ফ্রানচেসকা আলবানিজ।
বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে এক প্রতিবেদনের উপস্থাপনায় এ আহ্বান জানান তিনি। প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল, “From Economy of Occupation to Economy of Genocide” (দখলদারির অর্থনীতি থেকে গণহত্যার অর্থনীতি)। এতে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখলদারি ও অবৈধ বসতি গঠনের পরিকল্পনায় আন্তর্জাতিক বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো ‘করপোরেট যন্ত্র’ হিসেবে ভূমিকা রাখছে।
আলবানিজ বলেন, “ইসরায়েল আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম নিষ্ঠুর গণহত্যার জন্য দায়ী। একদিকে একটি জাতি সমৃদ্ধ হচ্ছে, অন্যদিকে আরেকটি জাতিকে নিশ্চিহ্ন করে ফেলা হচ্ছে। স্পষ্টতই, কারও কারও জন্য গণহত্যাও লাভজনক।”
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অস্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান, বড় প্রযুক্তি কোম্পানি, ভারী যন্ত্রপাতি নির্মাতা এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ইসরায়েলের অবৈধ দখলদারিতে ভূমিকা রেখে মুনাফা অর্জন করছে। কেউ নজরদারির প্রযুক্তি সরবরাহ করছে, কেউ সরাসরি সহিংসতায় সহযোগিতা করছে।
আলবানিজ আরও জানান, গাজায় চলমান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৭ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। কয়েক লাখ মানুষ বারবার বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ধ্বংস হয়েছে অসংখ্য শহর, গ্রাম, হাসপাতাল ও স্কুল। গাজার প্রায় ৮৫ শতাংশ এলাকাই এখন ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে।
তিনি বলেন, “তেল আবিব স্টক এক্সচেঞ্জে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে শেয়ারমূল্য ২০০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এতে বাজারে যুক্ত হয়েছে প্রায় ২২ হাজার কোটি ডলারের সম্পদ। অপরদিকে ফিলিস্তিনিরা শোচনীয় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।”
প্রতিবেদনে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, ইসরায়েলের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সহায়তা ও অস্ত্রচুক্তি বাতিল করতে হবে এবং দেশটির দমন–পীড়নে জড়িত করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুসারে, ইসরায়েলের সামরিক-শিল্প খাত দেশটির অর্থনীতির ‘মেরুদণ্ড’। একের পর এক সামরিক অভিযান ও দীর্ঘ দখলদারিত্ব তাদের জন্য যুদ্ধাস্ত্র পরীক্ষার মাঠ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, ইসরায়েল গাজা উপত্যকায় প্রায় ৮৫ হাজার টন বিস্ফোরক নিক্ষেপ করেছে, যা হিরোশিমায় ফেলা পারমাণবিক বোমার চেয়ে ছয় গুণ বেশি শক্তিশালী।