প্রিন্ট এর তারিখঃ May 23, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 4, 2025 ইং
গাজায় হিরোশিমার চেয়ে ৬ গুণ বোমা ফেলেছে ইসরাইল

গত ২১ মাসে ইসরায়েল গাজায় ৮৫ হাজার টন বোমা নিক্ষেপ করেছে, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানের হিরোশিমায় ফেলা পারমাণবিক বোমার ছয় গুণেরও বেশি। এমন তথ্য জানিয়ে গাজায় চলমান হামলাকে আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম নিষ্ঠুর গণহত্যা বলে মন্তব্য করেছেন ফিলিস্তিনে জাতিসংঘের বিশেষ দূত ফ্রানচেসকা আলবানিজ।
বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) ইসরায়েলি অস্ত্র সরবরাহকারী কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম নিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন। এরপর শুক্রবার (৪ জুলাই) খান ইউনিসে ইসরায়েলি হামলায় নিহতদের জানাজায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, “গাজার ওপর ভয়াবহভাবে বোমা বর্ষণ করা হচ্ছে—এটি একটি গণহত্যা, যা ক্ষুধা ও ভয়কে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) আসলে একটি ‘মৃত্যুফাঁদ’। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে গঠিত এই ফাউন্ডেশন ক্ষুধার্ত ও দুর্বল ফিলিস্তিনিদের সহায়তার নামে তাদের হত্যা ও দেশত্যাগে বাধ্য করার কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।”
এদিকে যুদ্ধবিরতির আলোচনা চললেও গাজায় ইসরায়েলের বোমাবর্ষণ থামেনি। আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, শুক্রবার ভোরে ইসরায়েলি বাহিনী গাজা উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে নির্বিচারে হামলা চালায়। হামলায় বহু হতাহত হয় বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। দক্ষিণাঞ্চলের শহর খান ইউনিসে বিশেষভাবে হামলা চালানো হয়।
মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, গাজায় গণহত্যা চালানোর অংশ হিসেবে ইসরায়েল অনাহারকে একটি যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানায়, টানা বোমাবর্ষণ, বাস্তুচ্যুতি এবং খাদ্য, পানি ও ওষুধের সংকটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে গাজা। সহায়তা নিতে গিয়ে শত শত ফিলিস্তিনি প্রাণ হারাচ্ছেন বা গুরুতর আহত হচ্ছেন। অনেকেই প্রাণ হারাচ্ছেন বিতরণকেন্দ্রে গিয়ে ‘সহায়তার ফাঁদে’ পা দিয়ে। সূত্র: আল জাজিরা, আনাদোলু, এপি
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বার্তা এক্সপ্রেস