প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 7, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 24, 2025 ইং
গাজায় প্রবেশের অপেক্ষায় ৬ হাজার ত্রাণবাহী ট্রাক : জাতিসংঘ

গাজার মানবিক সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। জর্ডান ও মিশর থেকে পাঠানো প্রায় ৬ হাজার ট্রাক খাদ্য ও চিকিৎসা সামগ্রী ইসরায়েলের অনুমতির অপেক্ষায় আটকে আছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনে নিযুক্ত জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ)।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) এক্স-এ দেওয়া বার্তায় ইউএনআরডব্লিউএ প্রধান ফিলিপ লাজ্জারিনি বলেন, “গাজা শহরের প্রতি পাঁচজন শিশুর একজন এখন মারাত্মক অপুষ্টিতে ভুগছে। তাদের অনেকেই জরুরি চিকিৎসা না পেলে মারা যেতে পারে।”
তিনি আরও জানান, শুধু শিশু নয়, তাদের বাবা-মায়েরাও ক্ষুধার্ত, ফলে সন্তানদের দেখভাল করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। এমনকি ইউএনআরডব্লিউএর স্বাস্থ্যকর্মীরা দিনে এক বেলা ডাল খেয়ে টিকে থাকছেন। অনেকেই অপুষ্টির কারণে অজ্ঞান হয়ে পড়ছেন।
ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে লাজ্জারিনি বলেন, “মানবিক সংস্থাগুলোকে নিরবচ্ছিন্নভাবে গাজায় কাজ করতে দিতে হবে। সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে।”
এদিকে, ১০০টির বেশি আন্তর্জাতিক এনজিও ও মানবাধিকার সংগঠন গাজায় দুর্ভিক্ষ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ এনেছে। সেভ দ্য চিলড্রেন, মার্সি কর্পস, ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (MSF) এবং নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলসহ সংস্থাগুলোর এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ইসরায়েল ইচ্ছাকৃতভাবে গাজায় ত্রাণ প্রবেশে বাধা দিচ্ছে। সীমান্তে হাজার হাজার টন খাদ্য ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পড়ে থাকলেও তা ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।
এতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি অবরোধ চলতে থাকলে গাজার পরিস্থিতি গণ-দুর্ভিক্ষে রূপ নিতে পারে। তারা অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ও ত্রাণ প্রবেশে বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দুর্ভিক্ষ ও অপুষ্টিতে আরও তিনজন মারা গেছেন, যার মধ্যে রয়েছে কয়েকটি শিশু। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত এ কারণে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১৩ জনে, যার ৮০ জনের বেশি শিশু।
গাজার কর্তৃপক্ষ বলছে, “ইসরায়েল পরিকল্পিতভাবে গাজায় দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি করছে। এ ভয়াবহ পরিণতির জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র দায়ী।” সূত্র: বিবিসি, আলজাজিরা
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বার্তা এক্সপ্রেস