প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 9, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Mar 8, 2026 ইং
হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল পশ্চিমবঙ্গে গ্রেপ্তার

রোববার (৮ মার্চ) ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ সীমান্ত এলাকা থেকে ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই (ANI) এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
গ্রেপ্তার অভিযান ও অভিযুক্তদের পরিচয়
এসটিএফ-এর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। তারা হলেন:
রাহুল ওরফে ফয়সাল করিম মাসুদ (৩৭): পটুয়াখালীর বাসিন্দা এবং হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান শ্যুটার।
আলমগীর হোসেন (৩৪): ঢাকার বাসিন্দা এবং ফয়সালের সহযোগী।
পুলিশ জানায়, গত ৭ ও ৮ মার্চের মধ্যবর্তী রাতে এক বিশেষ অভিযানে বনগাঁ এলাকা থেকে তাদের ধরা হয়। তারা সুযোগ বুঝে পুনরায় বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় সেখানে আত্মগোপন করেছিলেন।
সীমান্ত পারাপার ও বিভ্রান্তিকর ভিডিও বার্তা
জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, বাংলাদেশে হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পর তারা মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন। এর আগে গত ডিসেম্বরে ফয়সাল একটি ভিডিও বার্তা ছড়িয়ে দাবি করেছিলেন যে তিনি দুবাইয়ে আছেন। মূলত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে বিভ্রান্ত করতেই তিনি এই চাতুরীর আশ্রয় নিয়েছিলেন। ভিডিওতে তিনি ওসমানের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তুললেও হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছিলেন।
ফিরে দেখা: সেই নৃশংস হত্যাকাণ্ড
গত বছরের ১২ ডিসেম্বর পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে জুমার নামাজ শেষে ফেরার পথে শরীফ ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে গুলি চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলেও ১৮ ডিসেম্বর তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
ডিএমপির তদন্তে উঠে এসেছিল যে, ফয়সাল নিজেই সরাসরি গুলি চালিয়েছিলেন। এই ঘটনায় ফয়সালের পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্যকে আগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, যারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
আইনি পদক্ষেপ
গ্রেপ্তারকৃতদের রোববারই সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাদের পুলিশি হেফাজতে পাঠিয়ে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেন। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় তাদের ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বার্তা এক্সপ্রেস