দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি পরীক্ষা আয়োজনের লক্ষ্যে ‘প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নীতিমালা ২০২৬’–এর খসড়া অনুমোদন করা হয়েছে। নীতিমালাটি পর্যালোচনা ও অনুমোদনসংক্রান্ত আন্তমন্ত্রণালয় সভায় চূড়ান্ত হয় বলে জানিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।
সোমবার (৯ মার্চ ২০২৬) অধিদপ্তরের এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। চিঠিটি সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে, যাতে অনুমোদিত নীতিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রস্তুতি নেওয়া যায়।
কী বলা হয়েছে চিঠিতে
অধিদপ্তরের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বৃত্তি পরীক্ষা আয়োজনের উদ্দেশ্যে নীতিমালা পর্যালোচনা করা হয় এবং আন্তমন্ত্রণালয় সভায় তা অনুমোদিত হয়েছে। অনুমোদিত ‘প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নীতিমালা ২০২৬’ সংযুক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এতে বোঝা যাচ্ছে, আসন্ন শিক্ষাবর্ষে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এ নীতিমালা
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা দীর্ঘদিন ধরে প্রাথমিক স্তরের মেধাবী শিক্ষার্থীদের চিহ্নিতকরণ ও উৎসাহ প্রদানের একটি অন্যতম পদ্ধতি। নতুন নীতিমালা প্রকাশের মাধ্যমে—
-
পরীক্ষা আয়োজনের কাঠামো ও পদ্ধতি নির্ধারণ
-
প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, মূল্যায়ন ও ফল প্রকাশের নীতিগত দিকনির্দেশনা
-
বৃত্তির ধরন, সংখ্যা ও যোগ্যতা নির্ধারণ
-
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ
—এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা মিলবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
পরবর্তী পদক্ষেপ
নীতিমালা অনুমোদনের পর জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু হবে। পরীক্ষা আয়োজনের সম্ভাব্য সময়সূচি, অংশগ্রহণের শর্ত, নম্বর বণ্টন ও বৃত্তির সংখ্যা—এসব বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা শিগগিরই প্রকাশ করা হতে পারে।
শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নীতিমালা অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালিত হলে পরীক্ষার প্রক্রিয়া আরও সুশৃঙ্খল ও মানসম্মত হবে।
‘প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নীতিমালা ২০২৬’ অনুমোদনের মধ্য দিয়ে প্রাথমিক স্তরে মেধা মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ এগিয়ে গেল। এখন সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়, শিক্ষক ও শিক্ষা প্রশাসনের সমন্বিত প্রস্তুতির ওপরই নির্ভর করবে পরীক্ষাটি কতটা সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়।
বিস্তারিত নির্দেশনা শিগগিরই প্রকাশ করা হবে বলে জানা গেছে।