
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে ভোটের অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর শফিকুর রহমান। সোমবার বিকেলে রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন। মাহফিল আয়োজন করেছে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)।
শফিকুর রহমান বলেন, “নির্বাচনের আগে আমরা বড় গলায় বলেছি, আমরা কোনো দলের বিজয় চাই না। আমাদের লক্ষ্য ১৮ কোটি মানুষের বিজয়। ওই বিজয় অর্জিত হয়নি।” তিনি আরও দাবি করেন, “সবকিছু এখন স্পষ্ট, সাক্ষীও পাওয়া যাচ্ছে। বিচার এখন জনতার আদালতে, এবং সেই বিচারের রায় জনতার পক্ষেই আসবে ইনশা আল্লাহ।”
জামায়াতের আমির বলেন, সংসদে বিরোধী দলের আসন সংখ্যা বা পদ-মর্যাদা তাঁদের কাছে মূল বিবেচ্য বিষয় নয়। বরং শেষ পর্যন্ত জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা না করার অঙ্গীকারই বড়। তিনি বলেন,
“সস্তা কোনো সুযোগ-সুবিধা আমাদেরকে টলাতে পারবে না। জনগণের সুবিধা ও অধিকার নিশ্চিত করাই হবে আমাদের অঙ্গীকার।”
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান স্মরণ করে তিনি বলেন, ৫৪ বছরের দীর্ঘ যন্ত্রণা পার হওয়া যুবসমাজের নেতৃত্বে যে পরিবর্তন এসেছে, তা জামায়াত চিরতরে বুকে ধারণ করবে। যুবসমাজের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করাই তাঁদের কাজ। তিনি আশ্বাস দেন, জামায়াত স্বজনপ্রীতি, দলপ্রীতি বা ব্যক্তিপ্রীতি নয়, সুবিচার নিশ্চিত করতে কাজ করবে।
শফিকুর রহমান বলেন, “যাঁরা এক সময়ে মজলুম ছিলেন, আজ তাদের কেউ কেউ ভিন্ন ভূমিকায় কাজ করছে। ইতিহাস বারবার ফিরে আসে; যারা শিক্ষা নেয় না, তারা শাস্তি পায়।” তিনি সরকারের প্রতি সতর্কবার্তা দেন, যদি রাজনীতি থেকে ‘প্রতিহিংসার বিষ’ এবং ‘দুর্নীতির ক্যানসার’ দূর করা না যায়, তবে জাতির ভবিষ্যতে আরও মারাত্মক পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
তিনি বলেন, “আমরা একটি স্থায়ী সমাধান চাই। ফ্যাসিবাদ, দুর্নীতিবাদ ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত থাকবে। সংসদের ভিতরে জনগণের অধিকার রক্ষায় কথা বলব; যদি দাবি মেনে নেওয়া হয়, সমর্থন করব, না হলে প্রতিবাদ গড়ে তুলব।”
শফিকুর রহমান বিশ্বব্যাপী নিপীড়িত মানুষের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি বলেন,
“যেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হবে, জামায়াত সেখানে মানবতার পক্ষে দাঁড়াবে। মুসলিম বিশ্ব যেখানে ক্ষতিগ্রস্ত, আমরা তার পাশে থাকব।”
ইফতার মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন রাশেদ প্রধান, জাগপার মুখপাত্র। এছাড়া বক্তব্য দেন কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি।
শফিকুর রহমানের বক্তৃতা রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি, জনগণের অধিকার ও দেশের যুবসমাজের প্রতি জামায়াতের দৃঢ় মনোভাবের বার্তা হিসেবে বিশেষভাবে নজরকাড়া ছিল।