
পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটি এগিয়ে এনে গত সোমবার থেকে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ৯–১১ মার্চ নির্ধারিত স্নাতকোত্তর পর্যায়ের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা স্থগিত করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের জারি করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন–এর নির্দেশনার আলোকে ৯, ১০ ও ১১ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য এপ্রিল ২০২৫ সেমিস্টারের স্নাতকোত্তর পরীক্ষাগুলো স্থগিত করা হয়েছে।
স্থগিত হওয়া পরীক্ষাগুলো যথাক্রমে ২৮, ২৯ ও ৩০ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার বিস্তারিত সময়সূচি পরবর্তী সময়ে জানানো হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে ৯ থেকে ১৬ মার্চ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকবে। এ সময়ের মধ্যে পোস্টগ্র্যাজুয়েট থিসিস ডিফেন্স নেওয়ার সুযোগ থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।
গত রোববার দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
এ প্রেক্ষাপটে সরকারি ও বেসরকারি—সব বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি–সাশ্রয়ী ও দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদুল ফিতরের ছুটি এগিয়ে এনে সাময়িকভাবে একাডেমিক কার্যক্রম স্থগিত রাখার মাধ্যমে বিদ্যুৎ ব্যবহার কমানো সম্ভব হবে বলে সরকার মনে করছে।
পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির সময় কিছুটা বাড়লেও একাডেমিক ক্যালেন্ডারে সামান্য পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে সেমিস্টারভিত্তিক কোর্সসমূহের ফল প্রকাশ ও পরবর্তী কার্যক্রমে সময়সূচির পুনর্বিন্যাস প্রয়োজন হতে পারে।
তবে প্রশাসন জানিয়েছে, পুনঃনির্ধারিত তারিখে পরীক্ষা গ্রহণে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের সুবিধা বিবেচনায় রেখেই সময়সূচি পুনর্গঠন করা হবে।
মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে পড়ায় বাংলাদেশেও সাশ্রয়মূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সাময়িক ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
বুয়েটের পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত সেই বৃহত্তর সরকারি উদ্যোগের অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মহল আশা করছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দ্রুত নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রমে ফিরতে পারবে।