
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার মাটিকাটা ইউনিয়নের জামায়াত আয়োজিত ইফতার মাহফিলে এক বিতর্কিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সেতাবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। তিনি ২০১৭ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘প্রভাবশালী মাদক ব্যবসায়ী’ তালিকায় ছিলেন এবং হেরোইনসহ গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে ছিলেন। সেই সময় তিনি ইউপি সদস্যপদ থেকেও বরখাস্ত হন।
মঞ্চে সেতাবুর রহমান-এর উপস্থিতি দেখে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। নিহত নজরুল ইসলামের ছেলে রবিউল ইসলাম বলেন,
“আমরা শুনছি এই ইফতার মাহফিলের পুরো আয়োজনের খরচ দিয়েছেন সেতাবুর রহমান। তা না হলে তাঁকে মঞ্চে বসতে দেবে কেন? আমাদের বাবা হত্যার দায়ী এই ব্যক্তি এখন জামায়াতের মঞ্চে, সংসদ সদস্যের পাশে।”
সেতাবুর রহমান রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার রেলগেট এলাকার বাসিন্দা।
২০১৭ সালের তালিকায় তার বয়স ২৭ বছর এবং পিতার পরিচয় দিনমজুর হিসেবে উল্লেখ।
মাদক ব্যবসায় জড়িত হয়ে বিপুল বিত্ত অর্জন।
মাটিকাটা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নির্বাচিত হন।
২০১৭ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকায় ৯ নম্বরে তার নাম ছিল।
একই তালিকায় পৃষ্ঠপোষক হিসেবে নাম ছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরীর।
সেতাবুরের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা আছে, এর মধ্যে হত্যাসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা। গণ-অভ্যুত্থানের পর পলাতক ছিলেন।
ইফতার মাহফিলটি আয়োজিত হয় মাটিকাটা আদর্শ কলেজ মাঠে। প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। মঞ্চে সেতাবুর রহমান পেছনের সারিতে বসে ছিলেন।
গোদাগাড়ী উপজেলা জামায়াতের আমির নুমাউল আলী বলেন,
“আমরা প্রথম সারিতে থাকায় পেছনে ঠিক দেখিনি। সেতাবুর মঞ্চে ওঠার বিষয়টি খোঁজ নিয়ে পরে জানাব।”
তবে এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, মঞ্চে তাঁর উপস্থিতি রাজনৈতিক পুনর্বাসনের একটি উদাহরণ।
গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাসান বশির বলেন,
“মাদক ব্যবসায়ী হলে কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ দিলেও ছাড় পাবে না। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে কি না, তা দেখে বলা যাবে।”
সেটি ইঙ্গিত দেয়, সেতাবুরের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও অপরাধমূলক কার্যক্রম এখনও প্রশাসনের নজরে রয়েছে।
সেতাবুর রহমানের সঙ্গে তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা ওমর ফারুক চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।
২০১৮ সালের নির্বাচনের দিনে ভোটকেন্দ্র দখলের ঘটনায় নিহত নজরুল ইসলামের পরিবারের ওপর হামলার অভিযোগে সেতাবুরকে প্রধান আসামি করা হয়।
গণ-অভ্যুত্থানের পর আরও এক মামলা হয়, যার ফলে তিনি ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর গ্রেপ্তার হন।
মঞ্চে উপস্থিতি এবং রাজনৈতিক পুনর্বাসনের ঘটনাটি রাজশাহী এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।