ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশে শুরু হয়েছে। হট্টগোল ও স্লোগানের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংসদে ভাষণ শুরু করেন। এ সময় বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যরা দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান এবং পরে ওয়াকআউট করেন।
ভাষণের আগে উত্তেজনা
রাষ্ট্রপতিকে ভাষণ দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ঠিক সেই মুহূর্তে বিরোধী দলের সদস্যরা আসন ছেড়ে দাঁড়িয়ে প্ল্যাকার্ড হাতে প্রতিবাদ শুরু করেন।
তাঁদের প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল—
স্পিকার এ সময় সংসদ সদস্যদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তবে হইচইয়ের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি কক্ষে প্রবেশ করে স্পিকারের পাশে আসন গ্রহণ করেন এবং ভাষণ শুরু করেন।
ভাষণ চলাকালে দুই বিপরীত চিত্র
রাষ্ট্রপতির বক্তব্য চলাকালে ক্ষমতাসীন দলের সদস্যদের টেবিল চাপড়াতে দেখা যায়। অন্যদিকে বিরোধী দলের সদস্যরা স্লোগান অব্যাহত রাখেন এবং কিছু সময় পর ওয়াকআউট করেন।
এই দৃশ্যের মধ্য দিয়েই নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন কার্যত রাজনৈতিক উত্তাপের ইঙ্গিত দেয়।
ভাষণে যা বললেন রাষ্ট্রপতি
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁর ভাষণে বলেন, গণ–অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটেছে। তিনি জুলাই গণ–অভ্যুত্থান ও জুলাই শহীদদের স্মরণে অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন।
তিনি বর্তমান সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের কথাও উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রপতি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ও তার বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রভাবের প্রসঙ্গ টানেন। মূল্যস্ফীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পরিস্থিতি নিয়ে তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে।
কৃষি, শিল্প ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপের কথাও ভাষণে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি।
রাজনৈতিক তাৎপর্য
সংসদের প্রথম অধিবেশনেই বিরোধী দলের প্রকাশ্য প্রতিবাদ ও ওয়াকআউট নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। বিশেষ করে ‘জুলাই’ ইস্যুতে অবস্থানগত পার্থক্য সংসদের ভেতরে আরও তীব্র বিতর্কের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সূচনালগ্নেই এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি ভবিষ্যৎ আইনপ্রণয়ন ও সংবিধান–সংক্রান্ত আলোচনায় রাজনৈতিক বিভাজনকে আরও স্পষ্ট করে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।