
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু–কে অভিশংসনের মাধ্যমে অপসারণের পাশাপাশি গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি শপথ ভঙ্গ করেছেন, আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে এবং জুলাই আন্দোলনের সময় নির্বিকার ভূমিকা নিয়েছেন। নাহিদ ইসলাম ফ্যাসিস্টের দোসর আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে পদত্যাগ এবং নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেরও দাবি তুলেছেন।
শুক্রবার ময়মনসিংহ নগরের জিমনেসিয়াম মাঠ-এ অনুষ্ঠিত এনসিপির বিভাগীয় ইফতার মাহফিলে নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন। মাহফিলে ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলার এনসিপির নেতারা অংশ নেন। ইফতারের আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন এনসিপির আহ্বায়ক।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, “গতকাল সংসদে গিয়েছিলাম সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন, উচ্চকক্ষের দায়িত্ব নিশ্চিতকরণ এবং সংবিধান সংস্কারের উদ্দেশ্য নিয়ে। আমরা বলেছিলাম, সংসদে কোনো ফ্যাসিস্টের দোসরকে আমরা চাই না।”
তিনি অভিযোগ করেন, সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যা জুলাই আন্দোলনের চেতনার পরিপন্থী। “এর ফলে জাতীয় সংসদের সঙ্গে একটি ধরনের প্রতারণা সংঘটিত হয়েছে। স্পিকারের সঙ্গে আমরা আমাদের প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম, কিন্তু রাষ্ট্রপতিকে ভাষণ দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ফলে আমরা প্রতিবাদ স্বরূপ ওয়াকআউট করেছি,” বলেন নাহিদ ইসলাম।
নাহিদ ইসলাম এনসিপির ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাইফুল্লাহর গ্রামের বাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “এ ধরনের গুপ্ত হামলা, অগ্নিসন্ত্রাস এবং দাঙ্গা-হাঙ্গামা করে আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে টিকে থাকতে চায়। ৫ আগস্ট জনগণ তাদের প্রতিহত করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “বৃহত্তর ময়মনসিংহে জনগণ আওয়ামী লীগকে প্রতিহত করুন। আইনের শাসনে বিশ্বাসী হয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের হাতে ব্যবস্থা নিন। যদি তারা ব্যর্থ হয়, আমরা আমাদের করণীয় করব, ঘরে বসে থাকব না।”
ময়মনসিংহ বিভাগের ইফতার মাহফিলের মাধ্যমে এনসিপির ১০টি সাংগঠনিক বিভাগের ইফতার আয়োজন সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ছিলেন এনসিপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আশিকিন আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, যুগ্ম আহ্বায়ক আতিক মোজাহিদ, জাতীয় শ্রমিক শক্তির আহ্বায়ক মো. মাজহার ফকির, জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান এবং জাতীয় যুবশক্তির সদস্যসচিব জাহিদুল ইসলাম।
নাহিদ ইসলামের এই দাবিগুলো বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সৃজন করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে অভিশংসন ও গ্রেপ্তারের দাবি রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে এবং সরকারের প্রতি বিরোধীদলীয় চাপ সৃষ্টি করতে পারে।