
লাতিন আমেরিকার দেশ কিউবা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় বসেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ ক্যানেল শুক্রবার এক ভিডিও বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। কিউবা বর্তমানে চরম অর্থনৈতিক সংকটে রয়েছে, যার ফলে সাধারণ নাগরিকরা বিদ্যুৎহীনতার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি রেশনিং ও ওষুধের অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত।
দিয়াজ ক্যানেল বলেন, “উভয় দেশের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় মতপার্থক্য সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের লক্ষ্যেই এই আলোচনা শুরু হয়েছে। আশা করি, এটি দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোকে সংঘাতের পথ থেকে দূরে সরিয়ে আনবে।”
কিউবার অর্থনৈতিক সংকটের মূল কারণ হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর আরোপিত তেল অবরোধকে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্প কিউবার কাছে তেল বিক্রি করা যেকোনো দেশের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো-কে আটক করার পর কিউবা তাদের সবচেয়ে বড় বিদেশি পৃষ্ঠপোষক দেশকে হারায়।
এ পরিস্থিতিতে কিউবা নাগরিকরা দিনের অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎহীনতার মধ্যেই জীবন যাপন করছেন। বাজারে পণ্যের চরম ঘাটতি, জ্বালানির রেশনিং এবং ওষুধের অভাব সাধারণ মানুষকে খাদের কিনারে ঠেলে দিয়েছে।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা কিউবার সঙ্গে কথা বলছি। কিউবার নেতাদের উচিত একটি চুক্তিতে আসা, যা সহজে করা সম্ভব।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভেনেজুয়েলার সমর্থন হারানো এবং মেক্সিকো থেকে তেল সরবরাহ বন্ধের কারণে কিউবা এখন একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রের দিকেই ধাবিত হচ্ছে।
ট্রাম্পও ইতোমধ্যে মন্তব্য করেছেন, কিউবা হয়তো একটি ‘বন্ধুত্বপূর্ণ দখলের’ শিকার হতে পারে, যদিও তিনি যুক্তি দেন, এটি বন্ধুত্বপূর্ণ নাও হতে পারে।
হাভানার রাস্তায় সাধারণ মানুষ এই আলোচনার খবরকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, এটি বিদ্যুৎ বিভ্রাট থেকে মুক্তির সম্ভাবনা সৃষ্টি করতে পারে। এই সপ্তাহে স্থানীয়রা অন্ধকারে হাড়ি-পাতিল বাজিয়ে লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদ করেছেন।
৪৪ বছর বয়সী গৃহিনী ইয়াইমি গনজালেস বলেন, “আমরা দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার মতো অবস্থায় আছি। এই পরিস্থিতি আর সহ্য করা যায় না। আমি মনে করি কিউবা ও যুক্তরাষ্ট্রের এই আলোচনা ভালো কিছুর দিকে নিয়ে যাবে।”
কিউবার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার এই পদক্ষেপ দুই দেশের দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও তেল-অবরোধের জট কমাতে পারে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।