
ইরানের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র খারগ দ্বীপ শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের যুক্তরাষ্ট্র বিমান হামলার মুখে পড়েছে। এই হামলায় দ্বীপের ৯০টির বেশি সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টকম।
খারগ দ্বীপ ইরানের মোট জ্বালানি তেল রপ্তানির ৯০ শতাংশের বেশি প্রক্রিয়াজাত করে। তবে তেহরানের দাবি, হামলায় তেল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি এবং রপ্তানি অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভিডিও পোস্টে জানিয়েছেন, তিনি “ভদ্রতার খাতিরে তেল অবকাঠামো ধ্বংস না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন”, তবে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা দিলে তিনি পুনর্বিবেচনা করতে পারেন।
ইরানও হুঁশিয়ারি দিয়েছে, খারগ দ্বীপের তেল স্থাপনায় হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যের যুক্তরাষ্ট্র-সম্পর্কিত স্থাপনাগুলোকে ‘ছাইয়ের স্তূপে’ পরিণত করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্র জাপান থেকে প্রায় ২,৫০০ সেনা এবং একটি উভচর যুদ্ধজাহাজ মধ্যপ্রাচ্যে পাঠাচ্ছে। এই মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট সমুদ্র থেকে স্থলে অভিযান চালাতে সক্ষম। তবে কর্মকর্তারা জানান, এখনই স্থল অভিযান শুরু হবে না; এটি শুধু মোতায়েন।
ইরাকে বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসেও হামলা হয়েছে। এছাড়া সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে পাঁচটি মার্কিন রিফুয়েলিং বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের চারটি বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে, ১৩ সেনা নিহত এবং ১৫০ জন আহত।
ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর আইভানে ছয় মাস বয়সী শিশুসহ এক পরিবারের ছয়জন নিহত হয়েছেন। তেহরান, কারাজ, ইসফাহানসহ শহরগুলোতে ইসরায়েলি হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৪০০ হামলা চালানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বেসামরিক স্থাপনার সংখ্যা প্রায় ৪৩ হাজার।
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত চিকিৎসাকর্মীর সংখ্যা ২৬ ছাড়িয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলে বুর্জ কালাউইয়া শহরের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ১২ জন চিকিৎসাকর্মী নিহত হন। চলতি সপ্তাহে লেবাননে নিহতের সংখ্যা ৮২৬ ছাড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মার্ক কিমিট বলেন, “আমরা যুদ্ধের ঝুঁকি অনেক বাড়িয়ে দিয়েছি। এখন দেশটির অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্রকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।” জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্লেষক ভ্যালি নাসর বলেন, “খারগ দ্বীপে হামলা যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। উভয় পক্ষ সংঘাতের মাত্রা বাড়াচ্ছে; ইরান পিছু হটবে না।”
খারগ দ্বীপ, কিশ দ্বীপের পর এখন আবু মুসা দ্বীপেও হামলার প্রস্তুতি চলছে বলে সূত্র জানিয়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি সরবরাহ হয়, যা ইরানের হুমকির কারণে ইতিমধ্যেই সরবরাহে প্রভাব ফেলেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরান সংঘাত অঞ্চল আরও উত্তেজনার মধ্য দিয়ে নতুন পর্বে প্রবেশ করেছে। এই সংঘাতের তীব্রতা বিশ্বের জ্বালানি বাজার ও অঞ্চলের স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।