
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও নাহিদ ইসলাম দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সংবিধান প্রয়োগ নিয়ে সরকারের দিক থেকে আসা অনিয়ম ও অসংগতিকে কঠোরভাবে সমালোচনা করেছেন। রোববার সংসদের প্রথম অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে তিনি বলেন, সরকারি দল রাজনৈতিক সমঝোতা বিনষ্টের চেষ্টা করলে জনগণ এবং বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা তার বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে দাঁড়াবে।
নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ না করা, অন্তর্বর্তী সরকার ও ঐকমত্য কমিশন, চলমান নির্বাচন ও বর্তমান সরকার—সবকিছুকে বিএনপি সংবিধানের দোহাই দিয়ে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, “সংবিধান অনুযায়ী এই নির্বাচন এই সময়ে হওয়ার কথা ছিল না। সংবিধান অনুযায়ী অনেক কিছুই হয়নি। আগে যা সংবিধান অনুযায়ী হয়নি, তা সংসদে রেটিফাই হওয়া উচিত ছিল। সেই সমঝোতা যদি সরকারি দল বিনষ্ট করার চেষ্টা করে, তাহলে জনগণ ও আমরা তার বিরুদ্ধে দাঁড়াব।”
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, সংসদ কার্যক্রম একটি জায়গা, আর রাজপথ বা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড অন্য জায়গা। রাজপথে বিরোধী দলের অবস্থান, কর্মসূচি ও বক্তব্য চলমান থাকবে।
নাহিদ বলেন, “গণভোটের পরও সরকারি দল সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ করেনি। মনে হচ্ছে সংসদে এ বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। ঈদের পরে আমরা তাদের চূড়ান্ত বক্তব্য শুনব এবং তখন আমাদের অবস্থান জানাব।”
তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ–এর জুলাই সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ নিয়ে সংসদে প্রশ্ন তোলার বিষয়কেও সমালোচনা করেন। নাহিদ বলেন, “গণভোট হয়েছে, তাই ওই আদেশকেও মানতে হবে। এটি না মানা বা শপথকে অসাংবিধানিক আখ্যায়িত করা যৌক্তিক নয়, কারণ নির্বাচনী কমিশন ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারই শপথ গ্রহণ করেছেন।”
নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই সনদ ও তার বাস্তবায়ন আদেশ নিয়ে একটি রাজনৈতিক সমঝোতা ছিল, যা নির্বাচনের পরও মানা হয়নি। তিনি বলেন, “নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর সরকারি দল সেই মীমাংসিত বিষয়কে গায়ের জোরে অবজ্ঞা করার চেষ্টা করছে। বাংলাদেশের জনগণ এটি দেখছে। ১৯৯০ সালের গণ–অভ্যুত্থান ও ত্রিদলীয় জোটের রূপরেখার ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত ছিল। এবারও তারা সেই ইতিহাস পুনরাবৃত্তি করবে কি না, তা তাদের সিদ্ধান্ত।”
তিনি আরও বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে সংবিধান প্রয়োগ নিয়ে বারবার দোহাই দেওয়া হলেও অনেক আইন ও বাস্তবতা, যেমন শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি সংক্রান্ত আইন, এ সরকার বা অন্তর্বর্তী সরকার মানছে না। নাহিদ বলেন, “গণ–অভ্যুত্থানই সংবিধান সংস্কারের বৈধতা, এটি অন্তর্বর্তী সরকার ও চলমান নির্বাচনেরও বৈধতা।”
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম স্পষ্ট করে বলেন, সরকারি দল যদি রাজনৈতিক সমঝোতা ও সংবিধানকে উপেক্ষা করে, তাহলে জনগণ এবং বিরোধী দল যথাযথভাবে তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “সংসদে আমরা আমাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাব, আর রাজপথে আমাদের অবস্থান ও কর্মসূচি চলমান থাকবে।”
নাহিদ ইসলাম জানান, সরকারি দলের পক্ষ থেকে গণভোটের সিদ্ধান্ত ও শপথ গ্রহণ বিষয়ে স্পষ্ট জবাব না আসা পর্যন্ত বিরোধী দলের চূড়ান্ত বক্তব্য বা কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে না।