
নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) A M M Nasir Uddin বলেছেন, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবার সহযোগিতায় কমিশন একটি সুন্দর নির্বাচন উপহার দিতে পেরেছে। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা জানান।
সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন,
“আমরা জাতির কাছে যে ওয়াদা করেছিলাম, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সেই ওয়াদা পূরণ করতে পেরেছি। কেউ বলেননি ভোট দিতে কোনো সমস্যা হয়েছে। ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিয়েছেন।”
তিনি উল্লেখ করেন, ভোটের জন্য ব্যবহৃত অমোচনীয় কালি এই নির্বাচনে ইতিহাসে সেরা মানের ছিল। সাধারণত ভোট দেয়ার পর ঘষলেই কালি চলে যায়, কিন্তু এবারের কালি অবিশ্বাস্যভাবে টেকসই। তিনি হাসি দিয়ে বলেন, আগামী লোকাল গভর্নমেন্ট নির্বাচনে আবারও এ কালি ব্যবহারে উদ্বেগ আছে।
সিইসি নিজের বক্তব্যে ‘সংখ্যালঘু’ শব্দ ব্যবহারের বিরোধিতা জানান। তিনি বলেন, “আমরা সবাই বাংলাদেশি। এখানে মাইনরিটি কিসের? আমরা তো এক জাতি। ধর্মীয় বিভাজন থাকলেও সবাই সমান এবং সমান অধিকারপ্রাপ্ত।”
সিইসি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি মূলত নারীদের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। নারীদের ঘরের কাজের আর্থিক মূল্যায়ন করলে দেশের জিডিপি বর্তমানের তুলনায় তিন গুণ বেশি হতে পারত।
তিনি আরও জানান, আগে নারী ও পুরুষ ভোটারের মধ্যে প্রায় ৩০ লাখের ব্যবধান ছিল। বাড়ি বাড়ি ভোটার তালিকা হালনাগাদের ফলে তা কমে ১০ লাখে নেমেছে।
সিইসি বলেন, সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে নারী কর্মকর্তাদের দক্ষতা প্রশংসনীয় ছিল। ভোটের পর অনেক অনিয়মের অভিযোগ আসলেও কোনো নারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পক্ষপাত বা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ভবিষ্যতে ভালো কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ নারী নির্বাচন কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষ পুরস্কারের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব Akhtar Ahmed অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
অনুষ্ঠানে ‘সমতা নিশ্চিত করি নারী পুরুষ মিলে ভবিষ্যৎ গড়ি’ স্লোগানকে সামনে রেখে বক্তব্য দেন নির্বাচন কমিশনারগণ Abdur Rahmanel Masud, Begum Tahmida Ahmed এবং Md. Anwarul Islam Sarkar।
উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইসি সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব K M Ali Newaz, ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি Stefan Lilar, Gitanjali Singh এবং Suzanne Vaizey।
এই মতবিনিময় সভায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্য দেশব্যাপী সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচনের গুরুত্ব, নারীর ক্ষমতায়ন এবং গণতান্ত্রিক মূলনীতির প্রতি কমিশনের অঙ্গীকারের প্রমাণ বহন করে।