
বিএনপি সরকার দেশের ১১টি সিটি করপোরেশন ও ৪২টি জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় দলীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে। এই পদে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন বা দলীয় মনোনয়ন পাননি, যা রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এক ধরনের “পুনর্বাসন” হিসেবে দেখছেন।
সর্বশেষ গত রোববার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ৪২টি জেলা পরিষদে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দেয়। এদের মধ্যে অন্তত ১০ জন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির পরাজিত প্রার্থী। উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে রয়েছেন:
কুড়িগ্রাম-২: মো. সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, জেলা বিএনপি আহ্বায়ক
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩: হারুনুর রশিদ, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা
টাঙ্গাইল-৩: ওবায়দুল হক নাসির, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক
ময়মনসিংহ-১: সৈয়দ এমরান সালেহ, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব
রংপুর-৬: মো. সাইফুল ইসলাম, জেলা বিএনপি আহ্বায়ক
গাইবান্ধা-৩: সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক, জেলা বিএনপি সভাপতি
বাগেরহাট-২: শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন, জেলা বিএনপি আহ্বায়ক কমিটির সদস্য
খুলনা-৬: এস এম মনিরুল হাসান, জেলা বিএনপি ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব
জয়পুরহাট-১: মাসুদ রানা প্রধান, জেলা বিএনপি জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক
ঝিনাইদহ-২: মো. আবদুল মজিদ, জেলা বিএনপি সভাপতি
এছাড়া, কুষ্টিয়া জেলা পরিষদে প্রশাসক হয়েছেন কুষ্টিয়া-৩ আসনের দলীয় মনোনয়নবঞ্চিত সাবেক সংসদ সদস্য সোহরাব হোসেন। ভোলা জেলায় প্রশাসক হয়েছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম নবী আলমগীর।
জেলা পরিষদের মতোই ১১ সিটি করপোরেশনেও প্রশাসক নিয়োগের ধারা দেখা গেছে। সর্বশেষ দ্বিতীয় দফায় বরিশাল, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, রংপুর ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বরিশাল: বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন
রাজশাহী: মাহফুজুর রহমান
ময়মনসিংহ: রুকুনোজ্জামান রোকন
রংপুর: মাহফুজ উন নবী চৌধুরী
কুমিল্লা: মো. ইউসুফ মোল্লা
উপরের পাঁচ প্রশাসকই বিএনপির পদধারী নেতা। এর আগে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ, খুলনা, সিলেট, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর সিটিতেও প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে অনেকে সংসদ নির্বাচনে পরাজিত বা মনোনয়নবঞ্চিত।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক সালাহউদ্দিন এম আমিনুজ্জামান বলেন, “দলীয় ব্যক্তিদের প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে স্থানীয় সরকারকে নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি দলীয় লোকদের সামনে আনা হচ্ছে। যাদের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে, তাদের অনেকের এ কাজে অভিজ্ঞতা নেই। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিশেষ পরিস্থিতি ছিল। এখন তো নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায়। এ সময় নির্বাচনের উদ্যোগ না নিয়ে প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে এক ধরনের ব্যত্যয় হলো। স্থানীয় সরকারে প্রশাসক না দিয়ে নির্বাচনের উদ্যোগ নিলে ভালো হতো।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচিত সরকারের ক্ষমতায় থাকার পরও স্থানীয় সরকারে প্রশাসক নিয়োগের এই ধারা জনমতের বিপরীতে পদক্ষেপ হিসেবে দেখাচ্ছে। জেলা ও সিটি করপোরেশনগুলোতে দলীয় নিয়োগের মাধ্যমে সরকার আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনে সুবিধা গ্রহণের চেষ্টা করছে। এতে স্থানীয় জনগণের সরাসরি ভোটের অধিকার ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।