
দেশের সাধারণ শিক্ষাখাতে আর্থিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের জন্য অনুদান আবেদনের সময়সীমা এক মাস বাড়ানো হয়েছে। ২০২৫–২৬ অর্থবছরের জন্য এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
বিভাগের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পরিচালন বাজেটের আওতায় বেসরকারি সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারী এবং সরকারি ও বেসরকারি সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অনুদান প্রদানের জন্য ‘নীতিমালা (সংশোধিত–২০২৫)’ অনুসরণ করে আবেদন গ্রহণ করা হবে। নীতিমালার বিস্তারিত নির্দেশনা বিভাগটির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।
এই কর্মসূচির আওতায় দেশের সব স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বেসরকারি সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—এমপিওভুক্ত ও নন-এমপিওভুক্ত—প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন, মেরামত ও সংস্কার, আসবাব সংগ্রহ, পাঠাগার স্থাপন, খেলাধুলার সরঞ্জাম ক্রয় এবং প্রতিষ্ঠানকে প্রতিবন্ধীবান্ধব করতে অনুদানের জন্য আবেদন করতে পারবে। প্রতিষ্ঠান বাছাইয়ে অনগ্রসর এলাকার হলেও শিক্ষার মান ভালো—এমন প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
বেসরকারি সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা দুরারোগ্য ব্যাধি ও দৈবদুর্ঘটনার কারণে আর্থিক সহায়তার জন্য আবেদন করতে পারবেন। একইভাবে সরকারি ও বেসরকারি সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও দুরারোগ্য ব্যাধি, দৈবদুর্ঘটনা এবং শিক্ষা গ্রহণসংক্রান্ত ব্যয়ের জন্য আবেদন করতে পারবে।
শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে দুস্থ, প্রতিবন্ধী, তৃতীয় লিঙ্গ, অসহায়, রোগগ্রস্ত, গরিব, মেধাবী ও অনগ্রসর সম্প্রদায়ের আবেদনকারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। অনগ্রসর এলাকার শিক্ষার্থীরাও অগ্রাধিকার তালিকায় থাকবেন।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষে আবেদন করতে হবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের আবেদন প্রতিষ্ঠানপ্রধানের মাধ্যমে এবং স্নাতক/সমমান ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানপ্রধান বা রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।
আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে সরকারি ডিজিটাল সেবা প্ল্যাটফর্ম মাইগভ–এ নিবন্ধনের মাধ্যমে। নিবন্ধনের সময় প্রতিষ্ঠানপ্রধান/রেজিস্ট্রারকে ব্যানবেইসের সর্বশেষ বার্ষিক শিক্ষা জরিপ–২০২৫ অনুযায়ী মুঠোফোন নম্বর প্রদান করতে হবে। প্রোফাইল যাচাই শেষে ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান/শিক্ষক-কর্মচারী/শিক্ষার্থীদের আর্থিক অনুদান’ সেবায় প্রবেশ করে নির্ধারিত নির্দেশনা অনুসরণ করে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আবেদনের ক্ষেত্রে ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডি/এডহক কমিটির সভাপতির প্রত্যয়নপত্র এবং উপজেলা বা থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার প্রতিপাদন বাধ্যতামূলক।
শিক্ষক-কর্মচারী ক্যাটাগরি:
জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর ও কপি, প্রতিষ্ঠানপ্রধানের প্রত্যয়নপত্র, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা সনদ এবং দৈবদুর্ঘটনার ক্ষেত্রে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকের প্রত্যয়নপত্র সংযুক্ত করতে হবে।
শিক্ষার্থী ক্যাটাগরি:
মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে জন্মনিবন্ধন সনদ ও প্রতিষ্ঠানপ্রধানের প্রত্যয়নপত্র এবং স্নাতক/সমমান ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে বিভাগীয় প্রধানের প্রত্যয়নপত্র ও জন্মনিবন্ধন সনদ বা জাতীয় পরিচয়পত্র জমা দিতে হবে। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সমাজসেবা কর্মকর্তার সনদ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ক্ষেত্রে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকের সনদ সংযুক্ত করতে হবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুদান সরাসরি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ব্যাংক হিসাবে অনলাইনে প্রেরণ করা হবে। এ জন্য আবেদনকালে ব্যাংক হিসাবের তথ্য এবং এমআইসিআর চেক বইয়ের একটি চেক পাতার পিডিএফ কপি সংযুক্ত করা বাধ্যতামূলক। ব্যাংক হিসাব অনলাইন না হলে বা চেকের কপি সংযুক্ত না থাকলে আবেদন বাতিল বলে গণ্য হবে।
শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের অনুদান মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রদান করা হবে। আবেদন ফরমে উল্লেখিত কেওয়াইসি-হালনাগাদ ব্যক্তিগত মুঠোফোন নম্বর দিতে হবে; এজেন্ট বা মার্চেন্ট নম্বর গ্রহণযোগ্য নয়।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষক-কর্মচারীরা একবার এ সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন। পূর্বে এ খাত থেকে অনুদান পেলে পুনরায় আবেদন করা যাবে না। শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষাজীবনে প্রতি তিন বছর অন্তর আবেদন করতে পারবে।
বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, অসম্পূর্ণ আবেদন বা আবেদনের হার্ড কপি গ্রহণযোগ্য হবে না।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আবেদনের সময় এক মাস বাড়ানোয় অধিকসংখ্যক প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে সঠিকভাবে আবেদন করার সুযোগ পাবেন। এতে আর্থিক সহায়তা কর্মসূচির আওতা ও কার্যকারিতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।