
দেশের উচ্চশিক্ষা খাতের নীতিনির্ধারণী সংস্থা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)–এর নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অধ্যাপক মামুন আহমেদ। বুধবার কমিশনের কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন তিনি। বিদায়ী চেয়ারম্যান অধ্যাপক এস এম এ ফায়েজ নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। ইউজিসির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গত ১৬ মার্চ অধ্যাপক মামুন আহমেদকে চার বছরের জন্য ইউজিসির চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। যোগদানের তারিখ থেকেই তাঁর নিয়োগ কার্যকর হয়েছে। নিয়োগপত্রের শর্তানুযায়ী তিনি প্রচলিত বিধি অনুযায়ী বেতন-ভাতা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুবিধা ভোগ করবেন।
উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একাডেমিক ও প্রশাসনিক তদারকি এবং গবেষণা কার্যক্রম জোরদারের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব এখন তাঁর ওপর বর্তাবে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, পরিবর্তিত বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে ইউজিসির ভূমিকা আরও জোরালো করার প্রয়োজন রয়েছে।
অধ্যাপক মামুন আহমেদ এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়–এর সহ–উপাচার্য (শিক্ষা) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর তিনি এ পদে যোগ দেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক।
একাডেমিক জীবনে তিনি ১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন বিভাগ থেকে স্নাতক এবং ১৯৯১ সালে একই বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৯৬ সালের ২৮ মার্চ প্রভাষক হিসেবে শিক্ষকতা শুরু করেন। পরবর্তীতে ধারাবাহিক পদোন্নতির মাধ্যমে ২০০৮ সালে অধ্যাপক পদে উন্নীত হন।
উচ্চতর শিক্ষার জন্য তিনি জাপানের নিহন ইউনিভার্সিটি–এর স্কুল অব মেডিসিন থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। গবেষণা ও শিক্ষকতা—দুই ক্ষেত্রেই তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।
অধ্যাপক মামুন আহমেদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি–এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রাজনীতি ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা তাঁর রয়েছে।
নতুন চেয়ারম্যানের যোগদান অনুষ্ঠানে ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান, অধ্যাপক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, অধ্যাপক মো. সাইদুর রহমান, অধ্যাপক মাছুমা হাবিব, অধ্যাপক মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম এবং ইউজিসি সচিব মো. ফখরুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক মান, গবেষণা তহবিল, শিক্ষক নিয়োগ ও স্বচ্ছতা—এসব বিষয়ে সাম্প্রতিক সময়ে নানা আলোচনা রয়েছে। নতুন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে ইউজিসি এসব ক্ষেত্রে কী ধরনের সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেয়, সেদিকে নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট মহলের।
উচ্চশিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিতকরণ এবং আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান শক্তিশালী করতে কার্যকর নীতি ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণই হবে নতুন চেয়ারম্যানের প্রধান অগ্রাধিকার—এমন প্রত্যাশাই ব্যক্ত করছেন শিক্ষা বিশ্লেষকেরা।