পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। শুভেচ্ছাবার্তায় তিনি বলেছেন, দেশবাসীর প্রত্যাশা—কেউ যেন নতুন করে ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠার দুঃসাহস না দেখায়। শুক্রবার বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে দলটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন। বিবৃতিতে ঈদের ধর্মীয় তাৎপর্যের পাশাপাশি দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও তুলে ধরেন জামায়াতের আমির। শফিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘ এক মাসের সিয়াম সাধনার পর ঈদুল ফিতর এমন এক সময়ে এসেছে, যখন দেশে ফ্যাসিবাদমুক্ত পরিবেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। তাঁর ভাষায়, “দীর্ঘদিনের অগণতান্ত্রিক ও জালিম সরকারের পতন ঘটেছে। দেশবাসীর প্রত্যাশা, কেউ আর নতুন করে ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠার দুঃসাহস দেখাবে না।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশের মানুষ ভয়ভীতিমুক্ত পরিবেশে চলাফেরা ও মতপ্রকাশের সুযোগ পাবে। নাগরিকেরা জানমাল ও ইজ্জত-আব্রুর নিরাপত্তা ভোগ করবে এবং দেশ ঘুষ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলবাজিমুক্ত হবে। ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সবার শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। বিবৃতিতে শফিকুর রহমান ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ বাস্তবায়নের বিষয়টি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দেশের রাজনৈতিক দলগুলো এ সনদে স্বাক্ষর করেছে এবং গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ নাগরিক এর পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে তাঁর দাবি, সনদ বাস্তবায়নে সরকারের অনীহা লক্ষ করা যাচ্ছে। সরকারের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে কোনো ধরনের টালবাহানা জনগণ মেনে নেবে না। সরকারি ও বিরোধী দল ঐক্যবদ্ধভাবে জনগণের আকাঙ্ক্ষা দ্রুত বাস্তবায়ন করবে—এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি। শফিকুর রহমান বলেন, যাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে জাতি ফ্যাসিবাদমুক্ত পরিবেশ পেয়েছে, মহান আল্লাহ তাঁদের শহীদ হিসেবে কবুল করুন। যাঁরা আহত বা পঙ্গুত্ববরণ করেছেন, তাঁদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন তিনি। ঈদের আধ্যাত্মিক দিক তুলে ধরে জামায়াতের আমির বলেন, আল্লাহভীতি বা তাকওয়ার গুণাবলি অর্জনের দীর্ঘ প্রশিক্ষণের পর ঈদুল ফিতরের আগমন ঘটে। মাসব্যাপী সিয়াম সাধনা মানুষের আত্মশুদ্ধি ও সংযমের শিক্ষা দেয়, যা ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তিনি বলেন, ঈদের দিনে সব ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে মানুষে মানুষে দয়া, সৌভ্রাতৃত্ব, সাম্য ও ভালোবাসার সেতুবন্ধন গড়ে তোলা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সমাজের অবহেলিত, বঞ্চিত ও নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। দলীয় শুভেচ্ছার পাশাপাশি নিজের পক্ষ থেকেও শফিকুর রহমান দেশবাসীর সুখ-শান্তি, সমৃদ্ধি, সুস্বাস্থ্য ও নিরাপদ জীবন কামনা করেন।
‘ফ্যাসিবাদমুক্ত পরিবেশে ঈদ’
‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গ
শহীদদের স্মরণ ও আহতদের প্রতি সমবেদনা
ঈদের ধর্মীয় ও সামাজিক তাৎপর্য