দক্ষিণ ইসরায়েলের আরাদ শহরে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৫৯ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম। হামলার পর শহরের একটি হাসপাতালে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইসরায়েল জানায়, ইরান থেকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আরাদ শহরের কেন্দ্রস্থলে আঘাত হানে। এতে আবাসিক ভবনগুলোর মাঝখানে বিস্ফোরণ ঘটে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় ৫৯ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে পাঁচ বছর বয়সী এক কন্যাশিশুসহ ছয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এর আগে ইসরায়েলের জরুরি সেবা বিভাগ প্রায় ৭০ জনকে চিকিৎসা দেওয়ার কথা জানিয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে সংশোধিত হিসাবে আহতের সংখ্যা ৫৯ জন নিশ্চিত করা হয়।
‘সরাসরি আঘাত’, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
ইসরায়েলের অগ্নিনির্বাপণ সেবা বিভাগ এক বিবৃতিতে জানায়, ক্ষেপণাস্ত্রটি আবাসিক ভবনের মাঝখানে ‘সরাসরি আঘাত’ হানে। বিস্ফোরণে আশপাশের একাধিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া লোকজনকে উদ্ধারে তাৎক্ষণিক তৎপরতা শুরু করা হয়। আহতদের দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে নেওয়া হয়।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, হামলার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য আরও হামলার আশঙ্কায় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
আকাশপ্রতিরক্ষা ব্যর্থতা নিয়ে তদন্ত
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম আরুতজ শেভা সামরিক সূত্রের বরাতে জানায়, ক্ষেপণাস্ত্রটি মাঝপথে ধ্বংস (ইন্টারসেপ্ট) করার জন্য আকাশপ্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে দুটি প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল, তবে তা ব্যর্থ হয়। এর পরই ক্ষেপণাস্ত্রটি আরাদ শহরে আঘাত হানে।
ইসরায়েলি বিমানবাহিনী কেন ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রতিহত করতে ব্যর্থ হলো, সে বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে খবরে বলা হয়েছে। সামরিক কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, ঘটনার কারিগরি ও গোয়েন্দা দিক খতিয়ে দেখা হবে।
আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও তীব্র
সাম্প্রতিক সময়ে ইরান–ইসরায়েল উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এ হামলাকে নতুন মাত্রা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার পর ইসরায়েলে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য পাল্টা পদক্ষেপ নিয়ে নিরাপত্তা পর্যায়ে আলোচনা চলছে।
ঘটনার পর আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সংযত থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে।