
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো ইরানের হামলায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে। মার্কিন চিন্তন প্রতিষ্ঠান Center for Strategic and International Studies (CSIS) ও বিবিসি–এর যৌথ বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুদ্ধের প্রথম দুই সপ্তাহেই এই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮০ কোটি ডলার।
২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান–যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল সংঘাত তীব্র আকার ধারন করেছে। ইরানের পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করা হয়। সিএসআইএসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এ অঞ্চলে মার্কিন সামরিক অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি আগের হিসাবের চেয়ে বেশি।
মার্ক ক্যানিয়ান, সিএসআইএসের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ও বিশ্লেষণটির সহলেখক, বলেন, “এ অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি অনেকটাই কমিয়ে দেখানো হয়েছে। তবে বাস্তবে ক্ষয়ক্ষতি অনেক বেশি।”
ইরানের হামলার প্রধান নিশানা ছিল মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কৃত্রিম উপগ্রহ (স্যাটেলাইট) যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম।
এছাড়া কাতার, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতেও ইরানের হামলার প্রভাব পড়েছে। তবে পুরো ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত হিসাব এখনও প্রকাশিত হয়নি।
বিবিসি যখন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে, তারা বিষয়টি মন্তব্যের জন্য সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM)–এর দিকে নির্দেশ দেয়। সেন্টকমের সঙ্গে যোগাযোগের পরও কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে। সামরিক ঘাঁটিগুলোর ক্ষয়ক্ষতি শুধু সরাসরি অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়, বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং সামরিক সক্ষমতার ওপরও প্রভাব ফেলছে। সিএসআইএসের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই ধরণের ক্ষয়ক্ষতি মার্কিন কৌশলগত পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে বাধ্য করতে পারে।
মোট মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের হামলার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে প্রায় ৮০ কোটি ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যা সংঘাতের প্রাথমিক পর্যায়েই যুক্তরাষ্ট্রকে বড় ধরনের আর্থিক ও কৌশলগত চাপের মুখে ফেলেছে।