
তুরস্ক, সৌদি আরব, মিসর ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা গত বৃহস্পতিবার রিয়াদ–এ অনুষ্ঠিত ইসলামি দেশগুলোর সম্মেলনের ফাঁকে প্রথমবারের মতো বৈঠকে মিলিত হয়ে আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং সক্ষমতা একীভূত করার উপায় নিয়ে আলোচনা করেছেন। এই বৈঠককে কেন্দ্র করে তুরস্কের প্রচেষ্টা বিশেষভাবে নজর কেড়েছে, কারণ আঙ্কারা দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তান ও সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্থাপনের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বৈঠকে বলেন, “এই অঞ্চলের দেশগুলোকে একত্রিত হওয়া উচিত, নিজেদের সমস্যা নিজেদের সমাধান করতে শিখতে হবে। নীতিগতভাবে আমাদের এটি স্বীকার করতে হবে—না হলে কোনো বহিরাগত আধিপত্যবাদী শক্তি এসে তাদের স্বার্থের সমাধান চাপিয়ে দিতে পারে।” তিনি আরও বলেন, বর্তমান আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ—ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং উপসাগরীয় দেশগুলোয় তেহরানের পাল্টা হামলা—মোকাবিলায় যৌথ প্রচেষ্টা কীভাবে সুফল বয়ে আনতে পারে, তাও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
আঙ্কারার সূত্র অনুযায়ী, এই চুক্তিতে ন্যাটোর মতো সামরিক দায়বদ্ধতা থাকবে না। বরং এটি প্রতিরক্ষাশিল্পে বৃহত্তর সহযোগিতা এবং অন্যান্য প্রতিরক্ষা বিষয়ে একটি ‘নিরাপত্তা প্ল্যাটফর্ম’ হিসেবে কাজ করবে। তুরস্ক ইতিমধ্যেই নিজেদের প্রতিরক্ষাশিল্পে বিপুল বিনিয়োগ করেছে এবং উন্নত ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও যুদ্ধবিমান তৈরিতে নেতৃত্ব দিচ্ছে। পাকিস্তানের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র, সৌদি আরব উন্নত প্রযুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র এবং মিসর আঞ্চলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সক্ষমতার দেশ হিসেবে বিবেচিত।
হাকান ফিদান বলেন, দেশগুলোকে নির্দিষ্ট ইস্যুতে একসঙ্গে কাজ করতে হবে এবং একটি অভিন্ন অবস্থান গ্রহণে সক্ষম হতে হবে। রিয়াদে বৈঠকের যৌথ বিবৃতিতে উপসাগরীয় দেশগুলোয় তেহরানের হামলার তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। যদিও সরাসরি ইসরায়েলের নাম উল্লেখ করা হয়নি, তবে লেবাননে দেশটির ‘সম্প্রসারণবাদী’ নীতি উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান কায়রো সফরের সময় তুরস্ক ও মিসর নিরাপত্তাক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে একটি দ্বিপক্ষীয় সামরিক চুক্তি সই করেছে। একই সময়ে তুর্কি প্রতিষ্ঠান ‘মেকানিক্যাল অ্যান্ড কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি করপোরেশন’ মিসরের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ৩৫ কোটি ডলারের রপ্তানি চুক্তি সই করেছে, যার আওতায় গোলাবারুদ সরবরাহ এবং মিসরে কারখানা স্থাপন অন্তর্ভুক্ত।
সংক্ষেপে, এই বৈঠক আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলে দেশগুলোর যৌথ সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বহিরাগত হস্তক্ষেপ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।