
২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ প্রশ্নপত্রের কাঠামো ও নম্বর বিভাজন প্রকাশ করেছে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ)। আগামী এপ্রিল মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে ইতোমধ্যে প্রস্তুতির ব্যস্ততা শুরু হয়েছে।
নেপ জানিয়েছে, প্রশ্নপত্রে জ্ঞানমূলক, অনুধাবনমূলক, প্রয়োগমূলক এবং উচ্চতর দক্ষতামূলক—এই চারটি ডোমেইনভিত্তিক প্রশ্ন থাকবে। কোনো প্রশ্নে বিকল্প (alternative) থাকবে না।
নিচে বিষয়ভিত্তিক কাঠামো তুলে ধরা হলো—
পূর্ণমান: ১০০ | সময়: ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট
বাংলা প্রশ্নপত্রে সৃজনশীলতা ও ভাষাগত দক্ষতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
১. কবি ও কবিতার নামসহ কবিতার প্রথম ৮ পঙ্ক্তি লিখন — ১০
২. শব্দার্থ (৫টি) — ৫
৩. বাক্য গঠন (৫টি) — ৫
৪. শূন্যস্থান পূরণ (৫টি) — ৫
৫. বহুনির্বাচনি (৫টি) — ৫
৬. বিপরীত/সমার্থক শব্দ (৫টি) — ৫
৭. সংক্ষিপ্ত উত্তর (৪টি × ২) — ৮
৮. সংক্ষিপ্ত উত্তর (৩টি × ৫) — ১৫
৯. কবিতা/গদ্যের মূলভাব — ৫
১০. ভাষারীতি/পদ নির্ণয়/ক্রিয়ার কাল — ৫
১১. অনুচ্ছেদভিত্তিক প্রশ্ন তৈরিকরণ/বিরামচিহ্ন প্রয়োগ — ৫
১২. যুক্তবর্ণ বিভাজন ও শব্দ গঠন — ৫
১৩. এককথায় প্রকাশ — ৫
১৪. ফরম পূরণ/আবেদনপত্র — ৫
১৫. রচনা (সূত্রসহ/উন্মুক্ত) — ১২
পূর্ণমান: ১০০ | সময়: ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট
ইংরেজি প্রশ্নপত্র দুই অংশে বিভক্ত—একটি পাঠ্যবইভিত্তিক, অন্যটি অপ্রকাশিত (unseen) পাঠ্য থেকে। পাঠ্যবই হিসেবে ব্যবহৃত হবে ‘English for Today’ (Class V)।
বিশেষ নির্দেশনা: কোনো প্রশ্নে বিকল্প থাকবে না।
পূর্ণমান: ৫০ + ৫০ = ১০০ | সময়: ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট
এ দুই বিষয়ে বিশ্লেষণধর্মী ও ব্যাখ্যামূলক উত্তরের ওপর গুরুত্ব থাকবে।
পূর্ণমান: ১০০ | সময়: ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট
গণিতে মৌলিক ধারণা ও সমস্যা সমাধান দক্ষতা যাচাইয়ে জোর দেওয়া হয়েছে।
১. বহুনির্বাচনি (১০টি) — ১০
২. শূন্যস্থান পূরণ (১০টি) — ১০
৩. সংক্ষিপ্ত উত্তর (১৬টি) — ১৬
প্রতিটি প্রশ্নের মান সমান (৮ নম্বর করে)।
৪. চার প্রক্রিয়া (যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ)
৫. লসাগু ও গসাগু
৬. ভগ্নাংশ/দশমিক
৭. গড়
৮. শতকরা
৯. পরিমাপ/সময়/ক্ষেত্রফল
১০. জ্যামিতি (চিত্র অঙ্কন ও বৈশিষ্ট্য)
১১. উপাত্ত বিন্যস্তকরণ ও জনসংখ্যা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডোমেইনভিত্তিক প্রশ্ন থাকায় মুখস্থ নির্ভরতা কমিয়ে বোঝার ওপর জোর দিতে হবে। নিয়মিত অনুশীলন, সময় ব্যবস্থাপনা এবং লেখার চর্চা শিক্ষার্থীদের ভালো ফল অর্জনে সহায়ক হবে।
এপ্রিলের এই বৃত্তি পরীক্ষা প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। নতুন কাঠামো অনুযায়ী প্রস্তুতি নিলে শিক্ষার্থীরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে।