
বিএনপি নেতা–কর্মীদের সতর্ক করে দিয়ে দলটির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তিনি তাঁদের কর্মকাণ্ড নজরদারিতে রেখেছেন। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া এলাকায় নেহা নদীর খননকাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, “আমি চাই, বিএনপি নেতারা যেন ঠিক রাস্তায় চলে। আমি কিন্তু তাদের পেছনে রাডার ফিট করে দিয়েছি। সেই রাডার সব জায়গায় ঘুরছে। কে কী করছে, আমি সব জেনে যাব। কাউকে ক্ষমা করব না। পরিষ্কার কথা—নেতৃত্ব যাবে, আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।”
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্প্রতি দিনাজপুরের কাহারোলে খাল খনন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এ ধরনের খাল খনন কার্যক্রম অতীতে শুরু হয়েছিল এবং তা অব্যাহত থাকলে অঞ্চলের পানিসংকট অনেকটাই কমে যেত।
মির্জা ফখরুল বলেন, উত্তরাঞ্চলে কৃষকরা দীর্ঘদিন ধরে পানির সমস্যায় ভুগছেন। তিনি মাঠপর্যায়ের চিত্র তুলে ধরে বলেন, সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে গমের ক্ষতি হয়েছে। আবার শীত কমে গেলে কিংবা অতিবৃষ্টিতেও গম ও ভুট্টার ফলন নষ্ট হয়। আলুচাষিরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
কৃষকদের ঋণসংকটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অতীতে ক্ষমতায় এসে খালেদা জিয়া পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছিলেন। একইভাবে বর্তমান নেতৃত্ব কৃষকদের সহায়তায় বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, কৃষিঋণ মওকুফের পাশাপাশি পরিবারভিত্তিক সহায়তা কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে প্রান্তিক মানুষ সরাসরি উপকৃত হন।
তিনি আরও বলেন, দেশে ২০ হাজার খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি সৎভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, “কিছুসংখ্যক নেতা বেহেশতের টিকিট দিচ্ছেন। ধর্মকে বিক্রি করে কিছু করা যায় না। দেশের অধিকাংশ মানুষ ধর্মপ্রাণ, কিন্তু ধর্ম নিয়ে ব্যবসা পছন্দ করেন না।”
তিনি বলেন, ধর্ম ব্যক্তিগত বিশ্বাসের বিষয়; এটিকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা উচিত নয়।
বর্তমান জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইরান–যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল পরিস্থিতির প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ কমে গেছে, যার প্রভাব দেশে পড়েছে। একটি পেট্রলপাম্পে ভাঙচুরের ঘটনার উল্লেখ করে তিনি বলেন, অভিযোগ থাকলে দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে; কোনোভাবেই ‘মব’ সৃষ্টি করে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া যাবে না।
তার ভাষায়, “মবকে কঠিনহস্তে দমন করা হবে। গায়ের জোরে, আইনের বাইরে গিয়ে কোনো কাজ করা যাবে না।”
জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানার সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাইরুল ইসলাম, পানি উন্নয়ন বোর্ড উত্তরাঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ সরফরাজ বান্দা ও ঠাকুরগাঁওয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আতিকুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
জানা গেছে, নেহা নদীর ৫ দশমিক ৮ কিলোমিটার খননে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ১৪ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এলাকার সেচব্যবস্থা উন্নত হবে এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা কমবে।