২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে সকাল ৫টায় জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন দলের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ও দেশের অন্যান্য জেলা কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে।
এছাড়া ২৫ মার্চ, স্বাধীনতা দিবসের একদিন আগে, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন-এ দলের শীর্ষ নেতারা আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখবেন।
সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচি ঘোষণার তথ্য
রোববার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির বিস্তারিত ঘোষণা দেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। তিনি বলেন, “মহান স্বাধীনতা দিবস বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশের স্বতন্ত্র পরিচয় দিয়েছে। বহু প্রাণ ও রক্তপাতের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে মেজর জিয়াউর রহমান দিশাহারা জাতিকে নতুন পথ দেখিয়েছিলেন।”
রিজভী আহমেদ আরও বলেন, “স্বাধীনতার যে গৌরব আমরা অর্জন করেছি, তা আমাদেরকে অনেক কিছু দিয়েছে। যারা স্বাধীনতাকে দুর্বল করতে চেয়েছিল, তারা আজ পরাজিত। অতীতে মানুষের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল গুম ও হত্যার মাধ্যমে, যা একটি ভয়াবহ বন্দিদশা এবং উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা সৃষ্টি করেছিল।”
বেগম খালেদা জিয়ার ত্যাগ ও গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার
প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশের মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য তার জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। রিজভী উল্লেখ করেন, তাঁর ত্যাগের বিনিময়ে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। “এখন মানুষ কমপক্ষে নিরাপদে কথা বলতে পারছে। মন খুলে কথা বললেও আর গুম বা হত্যার শিকার হতে হবে না। বর্তমানে গঠনমূলক সমালোচনা করেও কেউ রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের শিকার হচ্ছে না—এটিই নতুন বাংলাদেশের বড় অর্জন।”
ভবিষ্যৎ লক্ষ্যমাত্রা
রিজভী আহমেদ বলেন, “তারেক রহমান দেশের মানুষের জন্য যে স্বপ্ন দেখিয়েছেন, তা পূরণের লক্ষ্যে দেশ ক্রমাগত এগিয়ে যাচ্ছে। তবে সবকিছু সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন।”
বিএনপির ঘোষণা অনুযায়ী, স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের কর্মসূচি কেবল স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন বা পতাকা উত্তোলনে সীমাবদ্ধ থাকবে না; এটি দেশের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে জনসমক্ষে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন হিসেবেও দেখা হচ্ছে।