জয়পুরহাটে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফয়সল আলিম অভিযোগ করেছেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগের কিছু নেতা পুনর্বাসনের নামে টাকা নিচ্ছেন। একই সঙ্গে তিনি চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় এবং ত্রাণসামগ্রী বিক্রির মতো অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন।
এই মন্তব্য তিনি গতকাল রোববার দুপুরে জয়পুরহাট সদর থানার সংলগ্ন নিজ বাসভবনের পাশে আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে করেন। অনুষ্ঠানে জেলা ও পাঁচবিবি উপজেলা বিএনপির নেতা-কর্মী এবং সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁর বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।
চাঁদাবাজি ও অনৈতিক কার্যক্রমের অভিযোগ
ফয়সল আলিম নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “সৎভাবে বিএনপি করতে হবে। আওয়ামী লীগের বাড়ি পোড়ানো ঠেকানোর নামে টাকা নেওয়া যাবে না। মামলা দিয়ে বা ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করা যাবে না। হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর ভয় দেখিয়ে টাকা নেওয়াও মেনে নেওয়া হবে না। ত্রাণের সম্পদ কিংবা রেড ক্রিসেন্টের সম্পত্তি বিক্রি করা কোনোভাবেই চলবে না।”
তিনি অভিযোগ করেন, জয়পুরহাটের চকবরকত এলাকায় আওয়ামী লীগের লোকজনের ১৬টি গরু বিক্রি করা হয়েছিল। এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধে তিনি নিজ উদ্যোগে প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন।
স্থানীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপট
চাঁদাবাজি ও অনৈতিক অর্থসংগ্রহের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে গিয়ে ফয়সল আলিম বলেন, “জয়পুরহাট ও পাঁচবিবিতে চাঁদাবাজির কোনো স্থান থাকবে না। স্থানীয় নির্বাচন আসছে। জনগণ কোনো চাঁদাবাজকে ভোট দেবে না।”
তিনি আরও যোগ করেন, দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা বা চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি বরদাশত করা হবে না। জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফয়সল আলিমের মন্তব্য
প্রথম আলোকে তিনি বলেন, “আমি সত্য কথাই বলেছি। আমাদের দলের বদনাম হয়েছে। আগে আওয়ামী লীগের ঘর পোড়ানো হবে না বলে টাকা নেওয়া হয়েছে, এখন পুনর্বাসনের নামে টাকা নেওয়া হচ্ছে। সত্য লুকিয়ে লাভ নেই। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান–এর নির্দেশনা স্পষ্ট—দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়, এমন কোনো কাজ করা যাবে না।”
বিএনপির এই নেতার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং স্থানীয় পর্যায়ে চাঁদাবাজি ও অনৈতিক কার্যক্রম রোধ করা হচ্ছে দলের অগ্রাধিকার।