পবিত্র ঈদুল ফিতর–এর ছুটি শেষে প্রথম কর্মদিবসেই শিক্ষা খাতে একগুচ্ছ উচ্চাকাঙ্ক্ষী কর্মসূচির ঘোষণা দিল সরকার। আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলায় দুই লাখের বেশি শিক্ষার্থীর মধ্যে বিনা মূল্যে স্কুল ড্রেস ও কেডস বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি দ্রুততম সময়ে প্রাথমিক স্তরের সব শিক্ষার্থীর জন্য বিনা মূল্যে ড্রেস ও জুতা সরবরাহের পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার সচিবালয়ে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। সভায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–এর (বিএনপি) নির্বাচনী ইশতেহারভিত্তিক ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা, ২০২৬–২৭ অর্থবছরের শিক্ষা বাজেট কাঠামো এবং আগামী পাঁচ বছরের উন্নয়ন কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। সভায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে প্রতিটি উপজেলায় দুই লাখের বেশি শিক্ষার্থীকে বিনা মূল্যে স্কুল ড্রেস ও কেডস দেওয়া হবে। পরবর্তী ধাপে দেশের সব প্রাথমিক শিক্ষার্থীকে এ সুবিধার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, এক বছরের মধ্যে প্রাথমিক, কারিগরি, মাদ্রাসা ও স্কুল-কলেজের সব শিক্ষকের হাতে ট্যাব সরবরাহের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচির আওতায় শিক্ষকদের ডিজিটাল কনটেন্ট ব্যবহারে দক্ষ করে তোলা এবং মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম সম্প্রসারণের কথা জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, শিক্ষা খাতে আধুনিকায়ন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বাধ্যতামূলক তৃতীয় ভাষা শিক্ষা, সবার জন্য কারিগরি শিক্ষা এবং ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষার্থী ঋণ সুবিধা চালু এবং হাফেজে কোরআনদের সম্মান ও স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। গণ-অভ্যুত্থান ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে শহীদদের সন্তান এবং আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী ‘জুলাই শিক্ষার্থী যোদ্ধাদের’ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন মন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে দ্রুত নীতিমালা প্রণয়নের কথাও বলা হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক প্রশিক্ষণের জট দূর করতে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন মন্ত্রী। প্রয়োজনে একাধিক পালায় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে দ্রুত সব শিক্ষকের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার ওপর জোর দেন তিনি। জাতীয়করণ হওয়া (বেসরকারি থেকে সরকারি হওয়া) ৫০ বছরের ঊর্ধ্ব বয়সী শিক্ষকদেরও প্রশিক্ষণের আওতায় আনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে উপজেলা পর্যায়ে গণিত অলিম্পিয়াড চালু করা হবে। পাশাপাশি প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক বিতর্ক প্রতিযোগিতা আয়োজন এবং বিতর্ক ক্লাব গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। শিক্ষা খাতকে সময়োপযোগী ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ঘোষিত কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়িত হলে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় সমতা ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা বিস্তারে নতুন গতি আসতে পারে। তবে বরাদ্দ, বাস্তবায়ন কাঠামো এবং মনিটরিং–ব্যবস্থা কতটা কার্যকর হয়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
শিক্ষার্থীদের জন্য ড্রেস, জুতা ও প্রযুক্তি সহায়তা
শহীদ পরিবারের সন্তানের জন্য অবৈতনিক শিক্ষা
শিক্ষক প্রশিক্ষণে জট নিরসন
মেধা বিকাশে নতুন উদ্যোগ
নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে তাগিদ