
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের সংঘাত এখন পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আক্রমণের জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, এসব হামলার বেশিরভাগ লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে, তবে কিছু আঘাত বেসামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামোতে পড়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য তেহরানের সঙ্গে ‘খুবই ভালো ও ফলপ্রসূ’ আলোচনার উল্লেখ করেন। তবে ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর ইরান সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ছবি পোস্ট করে তার ধারণাকে তামাশা করে। ছবিতে দেখা যায়, গাড়ির ড্যাশবোর্ডে শিশুদের গোলাপি খেলনা স্টিয়ারিং হুইল রাখা আছে, যা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা ট্রাম্পের মন্তব্যের বিদ্রূপ হিসেবে দেখছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইসরায়েলের তিনজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ট্রাম্প চুক্তি করার চেষ্টা করছেন, কিন্তু ইরানের পক্ষ থেকে মার্কিন দাবিকে মেনে নেওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিরাপত্তা বিষয়ক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসে এই পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করছেন। এছাড়া পাকিস্তানের একটি সূত্র জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনা হতে পারে।
ইরানে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-এর প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে। সম্প্রতি দেশের শীর্ষ নিরাপত্তা সংস্থার প্রধান হিসেবে এই বাহিনীর সাবেক কমান্ডার মোহাম্মদ বাকের জোলকাদরকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যিনি সরাসরি আয়াতুল্লাহ খামেনির কাছে দায়বদ্ধ। বিশ্লেষকরা বলছেন, এর ফলে ইরানের নীতি ও কৌশলে আইআরজিসির প্রভাব আরও দৃঢ় হবে।
অপরদিকে, ইরানের হামলার জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো এবং হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও এলএনজি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালির মাধ্যমে পরিবহন করা হয়। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি এই অবস্থা দীর্ঘায়িত হয়, তবে তা বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি এবং সরবরাহে অস্থিরতা সৃষ্টি করবে।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, আয়রন ডোম সিস্টেম এবং ড্রোন প্রতিরোধ ব্যবস্থার মাধ্যমে হামলা প্রতিহত করছে। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, “ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে এই কৌশল দীর্ঘমেয়াদে ব্যয়বহুল এবং কার্যকর নাও হতে পারে। পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে কূটনৈতিক সমাধান জরুরি।”
সংক্ষেপে, ইসরায়েলে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, হরমুজ প্রণালির অচল অবস্থা এবং ট্রাম্পের মন্তব্য বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আশা করছে, উভয় পক্ষই কূটনৈতিক মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।