
যে মানব পাচার মামলাকে তদন্ত শেষে ‘মিথ্যা’ উল্লেখ করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছিল সিআইডি, সেই মামলাতেই এবার সাবেক সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে নিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। একই মামলায় আগে একজন আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও রয়েছে।
মামলার বাদী আলতাব খানের অভিযোগ, আসামিদের সঙ্গে আপস করে সিআইডি মামলাটিকে মিথ্যা হিসেবে উপস্থাপন করে। এমনকি তাঁকে বিষয়টি জানানো হয়নি এবং উল্টো তাঁর বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। পরে তিনি আদালতে আপত্তি জানালে মামলাটি পুনঃতদন্তের জন্য ডিবিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী এই মামলার অন্যতম আসামি। সম্প্রতি রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন।
ডিবির কর্মকর্তারা জানান, মানব পাচার সংক্রান্ত অভিযোগের পাশাপাশি এক-এগারোর সময়কার ভূমিকা নিয়েও তাঁকে প্রশ্ন করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের মতে, বিদেশে জনশক্তি পাঠানোর নামে একটি প্রভাবশালী চক্র গড়ে উঠেছিল, যেখানে তাঁর সম্পৃক্ততা থাকতে পারে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পল্টন থানায় এই মামলা দায়ের করা হয়। এতে শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়, যাদের মধ্যে কয়েকজন সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা রয়েছেন। প্রথমে থানা-পুলিশ তদন্ত করলেও পরে মামলাটি সিআইডিতে যায় এবং তারা এটিকে ভিত্তিহীন বলে প্রতিবেদন দেয়।
তবে আদালতের নির্দেশে এখন ডিবি নতুন করে তদন্ত করছে। এরই মধ্যে এক আসামির জবানবন্দিতে বিদেশে কর্মী পাঠানোর আড়ালে মানব পাচার ও অর্থ আত্মসাতের তথ্য উঠে এসেছে বলে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
অন্যদিকে সিআইডির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তদন্তের সময় অধিকাংশ আসামি পলাতক বা জামিনে থাকায় জিজ্ঞাসাবাদ সম্ভব হয়নি এবং পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবেই তারা চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়।
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের এক-এগারোর পটপরিবর্তনের সময় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে। পরবর্তীতে তিনি সেনাবাহিনীতে উচ্চপদে দায়িত্ব পালন করেন এবং কূটনৈতিক দায়িত্বেও নিয়োজিত ছিলেন। অবসরের পর তিনি বিভিন্ন ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন।