
কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ: ২০২৪ সালের আগস্টে আর জি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক ধর্ষণ ও হত্যার পর নির্যাতিতাকে দীর্ঘদিন ‘অভয়া’ হিসেবে পরিচিত রাখা হয়েছিল। সেই ঘটনার চিকিৎসকের মা রত্না দেবনাথ এবার সরাসরি রাজনৈতিক লড়াইয়ে নামলেন। তিনি আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটি কেন্দ্র থেকে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-এর টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
বুধবার সন্ধ্যায় বিজেপি প্রকাশিত তৃতীয় দফার প্রার্থী তালিকায় রত্না দেবনাথের নাম উঠে এসেছে। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো তার নাম ও পরিচয় জনসমক্ষে প্রকাশ পেল। এই তালিকায় রত্না দেবনাথ ছাড়াও আরও ১৯ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
রত্না দেবনাথ নির্বাচনে নামার বিষয়ে বলেন, “আমি এই রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে লড়তে চাই। বিশেষ করে মায়েদের নিরাপত্তা, নারী অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই আমি নির্বাচনের মাঠে নেমেছি।”
রত্না দেবনাথের প্রার্থী হওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসার পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ দেখা দিয়েছে। আন্দোলনের সমর্থকরা তাঁর সিদ্ধান্তকে ইতিবাচকভাবে দেখলেও শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস বিষয়টিকে সহজভাবে নেয়নি।
২০২৪ সালের ৯ আগস্ট, আর জি কর হাসপাতালে কর্মরত অবস্থায় এক নারী চিকিৎসক ধর্ষণ ও খুন হন। বিচার দাবি ও প্রতিবাদের মধ্যে উত্তাল হয়ে ওঠে রাজ্যের সব সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল। শিক্ষানবিশ চিকিৎসকেরা এই হত্যাকাণ্ডের দোষীদের দ্রুত শাস্তি প্রদানের দাবি জানিয়ে তীব্র আন্দোলন চালান।
কলকাতার আদালত অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়, তবে ভুক্তভোগীর পরিবার রায় মেনে নেয়নি। তারা এখনো পূর্ণাঙ্গ বিচারের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। রাজ্য সরকারের দেওয়া ১০ লাখ রুপির ক্ষতিপূরণও তারা ফিরিয়ে দিয়েছে।
পানিহাটি কেন্দ্রে রত্না দেবনাথের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের তীর্থঙ্কর ঘোষ, যিনি আসনের বর্তমান বিধায়ক নির্মল ঘোষের ছেলে। এছাড়া বাম দল সিপিএম এই আসনে প্রার্থী করেছে কলতান দাশগুপ্তকে।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৎকালীন ভোট ফলাফল ছিল:
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এবার প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন, তাই পানিহাটিতে ত্রিমুখী লড়াই হতে পারে।
রত্না দেবনাথের রাজনৈতিক পদক্ষেপকে দেখা হচ্ছে নারী নিরাপত্তা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের পক্ষের শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে, যা এই আসনের নির্বাচনী দুনিয়ায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।