
ওয়াশিংটন/কিয়েভ: ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান শুরুর পর পেন্টাগন গুরুত্বপূর্ণ গোলাবারুদের মজুত দ্রুত পুনর্নির্মাণের চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু সীমিত মজুত এবং ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে, ইউক্রেনে বরাদ্দ করা কিছু সামরিক সরঞ্জাম মধ্যপ্রাচ্যে পুনঃস্থাপন করার বিষয়টি ভাবছে ওয়াশিংটন।
মার্কিন কর্মকর্তাদের তিনটি সূত্র জানায়, এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে সম্ভাব্য সরবরাহ সরানোর মধ্যে রয়েছে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র, যা গত বছরের ন্যাটো কর্মসূচির অংশ হিসেবে ইউক্রেনের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল।
ট্রাম্প প্রশাসন সরাসরি ইউক্রেনে নিরাপত্তা সহায়তার বেশির ভাগ অংশ বন্ধ করলেও, ‘প্রায়োরিটি ইউক্রেন রেসপন্স লিস্ট’ (পিইউআরএল) উদ্যোগের মাধ্যমে কিয়েভে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, গত বছরের গ্রীষ্ম থেকে প্যাট্রিয়ট ব্যাটারির ৭৫ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র এবং অন্যান্য আকাশ প্রতিরক্ষায় ব্যবহৃত প্রায় সব গোলাবারুদ পিইউআরএল’র মাধ্যমে ইউক্রেনে পৌঁছেছে।
ন্যাটোর মধ্যস্থতায় পিইউআরএল কর্মসূচি ইউক্রেনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সরঞ্জামের বিকল্প পথ তৈরি করেছে, যেখানে খরচ বহন করেছে ইউরোপীয় মিত্ররা।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উত্তেজনার কারণে ইউরোপের দেশগুলো উদ্বিগ্ন। দুজন ইউরোপীয় কূটনীতিক জানিয়েছেন, “ওয়াশিংটন দ্রুত তাদের বিদ্যমান গোলাবারুদ ব্যবহার করছে, যা ইউরোপের নিজের সরবরাহ প্রক্রিয়ায় বিলম্ব ঘটাতে পারে এবং পিইউআরএলের অধীনে কিয়েভের জন্য সরবরাহে প্রভাব ফেলতে পারে।”
পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ হিসাব অনুযায়ী, পিইউআরএল সরবরাহ সম্ভবত অব্যাহত থাকবে, তবে পারস্য উপসাগরীয় মিত্রদের মজুত সচল করার প্রয়াসে ভবিষ্যতের চালানগুলোতে আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
ইরানে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পেন্টাগন গোলাবারু উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করলেও, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষাশিল্পের উৎপাদন ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা এখনও একটি চ্যালেঞ্জ।
ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসের কাছে সম্পূরক প্রতিরক্ষা বাজেটের প্রস্তাব দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা প্রাথমিকভাবে ২০ হাজার কোটি ডলারের বেশি হতে পারে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে অস্ত্র সরানোর পরিকল্পনা ইউক্রেনের জন্য সরবরাহের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। তবে পেন্টাগন ও ওয়াশিংটন সূত্রে বলা হচ্ছে, জরুরি প্রয়োজনে এই সরবরাহ অন্যত্র পুনঃনির্দেশ করা সম্ভব, যদিও তা আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে শেয়ার করতে হবে।
এই অবস্থার মধ্যে ইউক্রেনীয় শহর ও অবকাঠামোর ওপর ক্রমাগত রাশিয়ার হামলার কারণে আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের সরবরাহ কিয়েভের কাছে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।