প্রিন্ট এর তারিখঃ May 12, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Mar 27, 2026 ইং
হরমুজ প্রণালিতে বাংলাদেশি জাহাজের ‘সেফ প্যাসেজ’: কূটনৈতিক তৎপরতায় বিপিসি

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি নিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের আনুষ্ঠানিক ভিত্তি নিশ্চিত করতে কাজ করছে বাংলাদেশ সরকার। বিপিসি চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, গণমাধ্যমে বিষয়টি আসার পর থেকেই তারা ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহের প্রক্রিয়াধীন রয়েছেন।
ইরানের ঘোষণা ও বিশেষ তালিকা
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আব্বাস আরাঘচি স্পষ্ট করেন:
সম্পূর্ণ বন্ধ নয়: হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি, বরং নির্দিষ্ট কিছু দেশের জন্য এটি খোলা রাখা হয়েছে।
বন্ধুরাষ্ট্রের সুবিধা: ইরান যেসব দেশকে বন্ধু মনে করে, তাদের জাহাজগুলোকে ইরানি সশস্ত্র বাহিনী বিশেষ নিরাপত্তার (এসকর্ট) মাধ্যমে পার করে দিচ্ছে।
তালিকায় বাংলাদেশ: এনডিটিভির তথ্যমতে—চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান, ইরাক ও ভারতের পাশাপাশি এই বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নামও উল্লেখ করেছে তেহরান। ইতিমধ্যে ভারতের দুটি জাহাজ এই সুবিধা গ্রহণ করেছে।
বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় এর প্রভাব
জ্বালানি বিভাগ এবং বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) কর্মকর্তাদের মতে, এই সবুজ সংকেত দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:
আমদানির নিশ্চয়তা: বাংলাদেশ তার চাহিদার সিংহভাগ পরিশোধিত জ্বালানি তেল চীন থেকে আমদানি করে। ইরান যেহেতু চীনের জাহাজ চলাচলে কোনো বিঘ্ন না ঘটানোর নিশ্চয়তা দিয়েছে, তাই চীনের কোম্পানি 'ইউনিপ্যাক সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড' থেকে তেল নিয়ে আসা জাহাজগুলো এখন নিরাপদে বাংলাদেশে পৌঁছাতে পারবে।
সংকট নিরসন: হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক থাকলে দেশের বাজারে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে, যা বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বড় একটি অর্জন।
পরবর্তী পদক্ষেপ
বিপিসি চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান বলেন, “আমরা বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের অফিশিয়াল ডকুমেন্ট হাতে পেলেই আমরা আমাদের জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দ্রুত যাতায়াতের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারব।”
বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইরানের এই অবস্থানকে বাংলাদেশের প্রতি তেহরানের বিশেষ বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে দেখছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বার্তা এক্সপ্রেস