
বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে অন্য কোনো রাজনৈতিক বা ঐতিহাসিক ঘটনার সঙ্গে মিলিয়ে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, সংবিধানের প্রস্তাবনায় ’২৪ ও ’৭১–কে একসঙ্গে উপস্থাপনের যে প্রস্তাব এসেছে, তা ইতিহাসসম্মত নয়। “’৭১ কখনো অন্য কোনো ইতিহাসের সঙ্গে মিলবে না। বাংলাদেশের সবচেয়ে গৌরবজনক অর্জন হচ্ছে স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতাসংগ্রাম,”—যোগ করেন তিনি।
শুক্রবার মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ মিলনায়তনে আয়োজিত বিএনপির আলোচনা সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ছাত্র গণ–অভ্যুত্থানসহ সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আন্দোলনে যাঁরা শহীদ হয়েছেন ও নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাঁদের অবদানকে বিএনপি স্বীকৃতি দেয়। তবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে অন্য অধ্যায়ের সঙ্গে একসারিতে দাঁড় করানো উচিত নয়।
“আমরা কারও বিজয় ছিনিয়ে নিতে চাই না, কারও ভূমিকাও কেড়ে নিতে চাই না। কিন্তু একাত্তরকে আগে সম্মান করতে হবে। স্বাধীনতার ইতিহাসকে সমুন্নত রাখতে হবে। তারপরে আসবে ’৭৫, ’৭৯, ’৯০, ’২৪—সবকিছু,” বলেন তিনি।
২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থান নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি ছিল একটি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, যা জনদাবির মুখে ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটিয়েছে। তবে এর মাধ্যমে রাষ্ট্র নতুন করে বিনির্মিত হয়নি।
“রাষ্ট্র আমাদের ছিল, লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত। সেই রাষ্ট্রের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে হবে। যাতে কোনো স্বৈরাচার আবার প্রতিষ্ঠিত না হয়,” বলেন তিনি। গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির বিকাশ, সংসদীয় আলোচনার চর্চা ও সমঝোতার মাধ্যমে রাষ্ট্রকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
আওয়ামী লীগ নিজেদের স্বাধীনতার চেতনার একমাত্র ধারক–বাহক দাবি করে আসছে—এমন মন্তব্য করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি বাহিনীর আক্রমণের পর ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম থেকে বিদ্রোহ ঘোষণা ও স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।
তিনি দাবি করেন, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও বিষয়টি স্বীকৃত। এ প্রসঙ্গে তিনি তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর বক্তব্য এবং ১৯৭৭ সালে ভারতে জিয়াউর রহমানকে দেওয়া সংবর্ধনার সময় ভারতের রাষ্ট্রপতির ভাষণের উল্লেখ করেন।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এ ছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বক্তব্য দেন।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ওয়াকিল আহমেদ, অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়–এর উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।
সভায় বক্তারা মহান স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখার আহ্বান জানান এবং সমসাময়িক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।