জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও শফিকুর রহমান শুক্রবার মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যেকোনো সমস্যা থাকলে তা শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধানের পথ খুঁজে বের করা জরুরি।
সকাল ৯টা ৪৪ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, ইরানে সম্প্রতি আক্রমণ ও পাল্টা-আক্রমণের কারণে এ অঞ্চলে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এতে ইতিমধ্যেই বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং বড় ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, “যুদ্ধের এই ভয়াবহতা শুধু সংশ্লিষ্ট অঞ্চলকেই নয়, গোটা বিশ্বকে আতঙ্কগ্রস্ত করে তুলেছে। কার্যত এ যুদ্ধাবস্থার কারণে সারা বিশ্বের অর্থনীতি ও জ্বালানিপ্রবাহ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়।”
শফিকুর রহমান দেশের বর্তমান পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, দীর্ঘ ছুটির পর আগামী ২৯ মার্চ থেকে অফিস-আদালত, কলকারখানাসহ সব ক্ষেত্র পূর্ণ রূপে কার্যকারিতায় আসবে। এই সময় জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হয়ে জনজীবনে দারুণ সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। তিনি বলেন, “জ্বালানি সংগ্রহের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষকে বিরক্তিকর ভোগান্তির মধ্যে ফেলে দিয়েছে।”
তিনি আরও সতর্ক করেছেন, জ্বালানি সংকট শুধু যানবাহন চলাচল বা বিদ্যুৎ সরবরাহ সীমিত রাখবে না, বরং কলকারখানা, কৃষি ও উৎপাদনশীল কাজগুলোতেও প্রভাব ফেলবে। বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হলে ইন্টারনেটের গতিপ্রকৃতিও ঝুঁকিতে পড়বে।
বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেছেন, “এই অবস্থায় আমরা যুদ্ধের সঙ্গে সম্পৃক্ত সকল পক্ষকে আহ্বান জানাই—এই মুহূর্তে যুদ্ধ বন্ধ করুন এবং কোনো সমস্যা থাকলে তা শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধানের পথ খুঁজে বের করুন।” তিনি আরো যোগ করেন, “মনে রাখবেন, আপনারা যে যুদ্ধের দাবানল চালাচ্ছেন, তা বিশ্বের শত শত কোটি মানুষের যন্ত্রণা ও দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দয়া করে বিশ্ববাসীকে আর কষ্ট দেবেন না।”
শফিকুর রহমানের এই আহ্বান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও বাংলাদেশী জনগণের জন্য যুদ্ধের মানবিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে সচেতনতার গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।