প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 2, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Mar 30, 2026 ইং
বিশৃঙ্খলা রুখতে জিরো টলারেন্স: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কড়া বার্তা

সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা সাম্প্রতিক সময়ে মব জাস্টিসের কারণে প্রাণহানি এবং গত ২১ ফেব্রুয়ারি নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে সরকারের পদক্ষেপ জানতে চান। তিনি পরিসংখ্যান দিয়ে জানান, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ২৫০-৩০০ মানুষ এ ধরনের সহিংসতার শিকার হয়েছেন।
মব কালচার নিয়ে সরকারের স্পষ্ট অবস্থান
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট তুলে ধরেন:
কঠোর হুঁশিয়ারি: মন্ত্রী বলেন, “দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিন থেকেই আমরা ঘোষণা করেছি—বাংলাদেশে কোনো মব কালচার অ্যালাউ করা হবে না। দাবি আদায়ের নামে রাস্তাঘাট বন্ধ করে জনভোগান্তি সৃষ্টি করা আর সহ্য করা হবে না।”
অপরাধের সংজ্ঞায়ন: তিনি স্পষ্ট করেন যে, সব সহিংসতাকে ‘মব’ বলা ঠিক নয়। কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা স্থাপনায় পরিকল্পিত হামলা ও ভাঙচুর মূলত ‘সুসংগঠিত অপরাধ’। এসব ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত বিচারের আওতায় আনা হচ্ছে।
গণতান্ত্রিক অধিকার বনাম বিশৃঙ্খলা: জনগণের যেকোনো যৌক্তিক দাবি থাকতে পারে, তবে তা উপস্থাপনের পদ্ধতি হতে হবে গণতান্ত্রিক। স্মারকলিপি প্রদান, সেমিনার বা শান্তিপূর্ণ সমাবেশের মাধ্যমে মত প্রকাশের অধিকার সবার আছে, কিন্তু মবের মাধ্যমে দাবি আদায়ের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
আগের শাসন আমল ও বর্তমান সংস্কার
রুমিন ফারহানা পূর্ববর্তী সরকারের গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার প্রসঙ্গ টানলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশ্বাস দেন যে, বর্তমান সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর। তিনি বলেন, বাকস্বাধীনতা ও সংগঠনের অধিকার নিশ্চিত করা হবে, তবে তার আড়ালে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করলে সরকার কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেবে।
মাঠ প্রশাসনের প্রতি নির্দেশনা
মন্ত্রী জানান, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যেন কোথাও কোনো জটলা বা উস্কানি দেখা দিলে তা শুরুতেই নস্যাৎ করে দেওয়া হয়। মব জাস্টিস বন্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতেও সরকার কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বার্তা এক্সপ্রেস