
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধ এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে পাকিস্তান ও চীন এক যৌথ পাঁচ দফা প্রস্তাব ঘোষণা করেছে। মঙ্গলবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বেইজিং সফরে গিয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর সঙ্গে বৈঠক করার পর এই প্রস্তাব প্রকাশ করা হয়।
বৈঠকের পর যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সংঘাত নিরসনের ‘একমাত্র কার্যকর পথ হলো সংলাপ ও কূটনীতি’। তবে মূল পক্ষগুলোকে আলোচনার টেবিলে আনা নিয়ে এখনও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়নি।
প্রস্তাবের মূল বিষয়সমূহ
পাকিস্তান–চীনের যৌথ প্রস্তাবে পাঁচ দফা মূলত নিম্নরূপ:
অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা।
সব নৌপথ, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
সংঘাত নিরসনে সংলাপ ও কূটনীতির ব্যবহার।
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা।
স্থায়ী সমাধানের জন্য আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অংশীদারদের সংলাপে অন্তর্ভুক্ত করা।
চীনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই সফরের মূল উদ্দেশ্য ইরানে চলমান সংঘাত নিরসনে চীন ও পাকিস্তানের সহযোগিতা শক্তিশালী করা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নতুন প্রচেষ্টা চালানো।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পাকিস্তান নিজেকে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে স্থাপন করছে।
প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান আসিম মুনির যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে বার্তা আদান-প্রদানে ভূমিকা পালন করছেন।
এছাড়া, ইসলামাবাদে সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক আয়োজন করা হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক সমাধান খুঁজে বের করার জন্য। তবে বৈঠকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের অনুপস্থিতি কূটনৈতিক প্রভাব কিছুটা সীমিত করেছে।
পাকিস্তানের স্বার্থ ও উদ্বেগ
রাজনৈতিক বিশ্লেষক রফিউল্লাহ কাকার মনে করেন, পাকিস্তান মুসলিম বিশ্বে প্রভাবশালী অবস্থান প্রতিষ্ঠা ও ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব প্রদর্শনের জন্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে এগিয়ে এসেছে।
হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে তেলের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে।
ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত এবং বেলুচিস্তানের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে।
দেশে শিয়া ও সunni সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা কমিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা বজায় রাখতে।
সৌদি আরব ও অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর অর্থনৈতিক নির্ভরতা বজায় রাখতে।
এছাড়া ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে পাকিস্তান সরাসরি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তান ও চীনের যৌথ উদ্যোগ প্রতিফলিত করছে আঞ্চলিক কূটনীতির গুরুত্ব, সংলাপের প্রয়োজনীয়তা এবং শক্তি–সামঞ্জস্য বজায় রাখার চেষ্টা।
বিশ্লেষকের মতে, পাকিস্তান শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক স্বার্থে নয়, নিজস্ব নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও স্থিতিশীলতার স্বার্থেও মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা পালন করছে।