জাতীয় সংসদে বুধবার বিকেলে বিরোধী দল সংসদ কক্ষ থেকে ‘ওয়াকআউট’ করেছে। সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বানের বিষয়ে কোনো প্রতিকার না পাওয়া এবং তাঁদের প্রস্তাবটি চাপা দেওয়ার অভিযোগে বিরোধী দল এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওয়াকআউটের নেতৃত্ব দেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি সংসদ সদস্যদের সঙ্গে বেরিয়ে যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের বলেন, “যেহেতু আমরা জনগণের সংস্কারের দাবি সংসদে আদায় করতে পারিনি, তাই এখন সেই দাবি আমরা জনগণের কাছে নিয়ে যাব।”
গত মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বানের বিষয়ে একটি মুলতবি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। সরকারি দল সংসদে সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি সর্বদলীয় বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেয়, তবে বিরোধী দল এতে একমত হয়নি। বিরোধী দল জানায়, সংবিধান সংস্কার পরিষদকে কেন্দ্র করে কোনো কমিটি করা হলে তারা সেটি পর্যালোচনা করবে।
সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দিতে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, বিষয়টি জন–আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত। গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের রায় এই সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত। তিনি বলেন, “আমরা স্পিকারকে সিদ্ধান্ত দেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছিলাম। কিন্তু কোনো প্রভাব বা প্রতিকার পাইনি। এ কারণে আমরা ওয়াকআউটের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এই ঘটনায় বলেন, মুলতবি প্রস্তাবটি তাঁর অনুপস্থিতিতে ডেপুটি স্পিকার গ্রহণ করেছিলেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যে বিষয় আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব, সেই বিষয়ে মুলতবি প্রস্তাব বিবেচিত হতে পারে না। তবে বিরোধী দলের আরও বক্তব্য থাকলে তা উন্মুক্তভাবে শোনা হবে।
বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান জানান, “প্রতিকার না পাওয়া এবং মূল নোটিশ চাপা দেওয়ার প্রচেষ্টা আমাদের ওয়াকআউটের কারণ।” তিনি আরও বলেন, এটি কোনো দলের স্বার্থ নয়, এটি দেশের জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের বিষয়।
সংসদীয় রীতি অনুযায়ী স্পিকার জানিয়েছেন, বিরোধীদলীয় সদস্যরা ওয়াকআউট করতে পারেন। এরপর সংসদ সদস্যরা কক্ষ ত্যাগ করেন। এই ওয়াকআউটের মাধ্যমে বিরোধী দল স্পষ্ট সংকেত দিয়েছে যে, সংবিধান সংশোধনের প্রসঙ্গে জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান না দেখালে তারা সংসদীয় কার্যক্রমে বাধ্য হয়ে আন্দোলনমুখী অবস্থান নিতে পারে।