
পাবলিক পরীক্ষা, শিক্ষক নিয়োগ কিংবা যেকোনো নিয়োগ পরীক্ষায় নকলের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। কুমিল্লায় এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, কুমিল্লা-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. শামসুল ইসলাম। সভায় কুমিল্লা অঞ্চলের শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, কেন্দ্রসচিব ও শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
‘শিক্ষা জাতি গঠনের পবিত্র দায়িত্ব’
মন্ত্রী বলেন, শিক্ষাব্যবস্থা কেবল একটি প্রশাসনিক খাত নয়; এটি জাতি গঠনের মূল ভিত্তি এবং একটি পবিত্র দায়িত্ব। বর্তমান সরকারপ্রধান তারেক রহমানের নেতৃত্বে ‘আগামীর বাংলাদেশ’ গড়ার যে ভিশন গ্রহণ করা হয়েছে, তার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে শিক্ষা। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে নকলমুক্ত, সুশৃঙ্খল ও মানসম্পন্ন শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি অতীত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, ২০০১–০৬ মেয়াদে নকলবিরোধী কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ফলে শিক্ষার গুণগত মান দৃশ্যমানভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে নানা কারণে সেই ধারাবাহিকতা ব্যাহত হয়। “আমরা আবার সেই সঠিক পথে ফিরতে চাই, যেখানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রশাসন সম্মিলিতভাবে সৎ ও জবাবদিহিমূলক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলবে,” বলেন মন্ত্রী।
শিক্ষা কার্যক্রমকে ‘সাদকায়ে জারিয়া’র সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, একজন শিক্ষক যখন একজন শিক্ষার্থীকে সুশিক্ষিত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলেন, তা কেবল পেশাগত দায়িত্ব নয়, বরং স্থায়ী সওয়াবের কাজ। এ প্রেক্ষাপটে তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে ‘ইবাদতখানা’ হিসেবে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
আইন আধুনিকায়ন ও জবাবদিহি জোরদার
সভায় নকল প্রতিরোধে ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষা আইন আধুনিকায়নের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। মন্ত্রী জানান, প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইনটি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে ডিজিটাল মাধ্যমে নকলসহ সব ধরনের অসদুপায় প্রতিরোধ করা যায়।
নতুন প্রস্তাবনায় কেন্দ্রসচিব, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিধান সংযোজন করা হয়েছে। কোনো পরীক্ষাকেন্দ্রে নকলের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনা হবে। প্রয়োজনে পরীক্ষা–পরবর্তী খাতা মূল্যায়নে র্যান্ডম চেকিং চালুর কথাও জানান তিনি।
জনপ্রতিনিধি ও শিক্ষা প্রশাসনের অঙ্গীকার
সভায় কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কয়েকজন সংসদ সদস্য, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, কুমিল্লা অঞ্চলের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার কেন্দ্রসচিবসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
উপস্থিত জনপ্রতিনিধি ও শিক্ষা–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নকল প্রতিরোধ, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের নৈতিক বিকাশে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আইন আধুনিকায়ন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেলে পরীক্ষাকেন্দ্রে অনিয়ম কমবে এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়বে।