
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া রোববার প্রধানমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন সরকারের প্রতি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, গণভোটের রায় যদি মানা না হয়, তাহলে এনসিপি সরকারকে “অবৈধ সরকার” ঘোষণা করতে শুরু করবে।
সরকারের প্রতি সর্তক বার্তা
এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘গণভোটের রায় যদি আপনারা (সরকার) না মানেন, আমরা সেই মুহূর্ত থেকেই সরকারের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ করব। আমরা সময় নেব না, যেমনভাবে আপনারা আমাদের অর্জন ধূলিসাৎ করার জন্য সময় নেননি, তেমনি আমরা নেব না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা ১৫–২০ বছরে আর কোনো অভ্যুত্থান হবে না বলে আশ্বাস দেন। কিন্তু ইতিহাস দেখাচ্ছে, যখন ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের অর্জন রক্ষা করা হয়নি, তখনই গণতান্ত্রিক আন্দোলন সফল হয়েছে। তাই ২০২৬ সালের আগে রাষ্ট্র সংস্কার ও গণভোটের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করলে বিপজ্জনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।’
অবস্থান ও অভিযোগ
রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘শুরু থেকে আমরা সহযোগিতা করতে চেয়েছি, কিন্তু বর্তমান সরকার আমাদের আন্দোলনের বাইরে রাখছে। আমাদের রাজপথে নামা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।’
তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের যে অধ্যাদেশগুলো প্রধানমন্ত্রী ও নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা বাড়াতে পারে, সেগুলো রাখা হচ্ছে। কিন্তু জনগণের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করা অধ্যাদেশগুলো বাতিল করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘জনগুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো অবশ্যই আইনে পরিণত করতে হবে। বিশেষ পরিস্থিতির জন্য করা স্থানীয় সরকার অধ্যাদেশগুলো বাতিল করতে হবে।’
স্বৈরাচারের আশঙ্কা
এনসিপির মুখপাত্র স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের যে কোনো সময় অপসারণের ক্ষমতা নির্বাহী বিভাগে রাখার বিষয়টিকে “দেশের গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ” আখ্যায়িত করেন। এছাড়া তথ্য অধিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশকে বিল আকারে সংসদে না তোলার প্রক্রিয়াকেও সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, ‘সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের যে প্রক্রিয়া হচ্ছে, সেটি স্বৈরাচারের জন্ম দেয়। আমরা আগে ফ্যাসিবাদ দেখেছি; এখন স্বৈরাচারের সব লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।’
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের ভূমিকা
আসিফ মাহমুদ অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদেরও সরব হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘উপদেষ্টারা এখন নীরব থাকছেন, যদিও আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে অনেকেই সোচ্চার ছিলেন। তাদের উচিত সেই সময়ের ভূমিকা ফিরে আনা।’
এনসিপির অন্যান্য নেতাদের মন্তব্য
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, ‘হানিমুন পিরিয়ড শেষ না হতেই বিএনপি সরকার রাষ্ট্র সংস্কার ও মেরামতের কবর রচনা করেছে। গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের অন্তত ৪০ শতাংশ ইতিমধ্যে তারা বাতিল করেছে। সরকারের এই পথ আত্মঘাতী ও বেপরোয়া।’
সংবাদ সম্মেলনের সঞ্চালনা করেন যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন। এছাড়া দলের যুগ্ম আহ্বায়ক **জাবেদ রাসিন**ও বক্তব্য দেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এনসিপির এই কড়া মন্তব্য সরকারের উপর রাজনৈতিক চাপ বৃদ্ধি করবে। গণভোটের ফলাফল ও রাষ্ট্র সংস্কার সংক্রান্ত বিতর্ক দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও উত্তেজিত করতে পারে।