প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 3, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Apr 7, 2026 ইং
৪ হাজার কোটি খরচের ইভিএম নিয়ে তর্ক, এখন ঝুঁকির সঙ্গী

২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকায় কেনা দেড় লাখ ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) এখন ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। মেয়াদ শেষ হওয়ায় এসব যন্ত্র নির্বাচনেও কাজে লাগছে না, অথচ পুড়িয়ে ফেলার সুযোগ নেই—কারণ ইভিএম কেনাকাটায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত চলমান। এছাড়া মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের (অডিট) আপত্তির কারণে এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র না থাকায় ইসি পোড়ানোর উদ্যোগ নিতে পারছে না।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, দেশের ৪১ জেলা এবং বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির (বিএমটিএফ) ওয়্যারহাউসে এই ইভিএমগুলো রাখা আছে। প্রতি মাসে গুদাম ভাড়া দিতে হচ্ছে কোটি টাকার পরিমাণে। জামালপুর জেলায় আড়াই হাজার, মানিকগঞ্জে তিন হাজারের বেশি ইভিএম বেসরকারি গুদামে রাখা হয়েছে। মাসিক ভাড়া আড়াই লাখ টাকার বেশি। অনেক স্থানে ব্যাটারি চার্জ, রক্ষণাবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
২০১৮ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পরিকল্পনায় দেড় লাখ ইভিএম কিনে নেওয়া হয়। প্রতিটি ইভিএমের মূল্য ধরা হয়েছিল প্রায় ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা, যা ভারতের মূল্যের প্রায় ১১ গুণ। পরে ২০২৩ সালে আরও দুই লাখ ইভিএম কেনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
নির্বাচন কমিশন ২০২৪ সালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীনের নেতৃত্বে ইভিএম ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করে। কমিটির সভাপতিত্বে করা হয় যুগ্ম সচিব মো. মাঈন উদ্দীন খানের নেতৃত্বে। তবে কমিটি এখন পর্যন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ইভিএমগুলো অকেজো হয়ে গেছে এবং মেয়াদও শেষ। দুদকের অনুমতি নিয়ে এই যন্ত্র অপসারণ করা উচিত। ২০১৮ সালের উচ্চমূল্যের নকল ইভিএম কেনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা না হলে ভবিষ্যতে অনুরূপ দুর্নীতি পুনরায় ঘটতে পারে।
ইভিএম প্রথম তৈরি করে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)। প্রথম ব্যবহার হয় ২০১১ সালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে। পরে রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সমস্যা ধরা পড়ায় ২০১৩ সালে ব্যবহারে বিরতি আসে। পরবর্তী সময়ে কে এম নূরুল হুদা কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর এ যন্ত্র ব্যবহার শুরু হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একদিকে কোটি কোটি টাকার অপচয়, অন্যদিকে ইভিএম ব্যবহারযোগ্য নয়—নির্বাচন কমিশন গুদামে ভাড়া দিয়ে এই বোঝা বহন করছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আইনি ও প্রশাসনিক ব্যাঘাত ছাড়া সমস্যার সমাধান কঠিন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বার্তা এক্সপ্রেস