প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 21, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Apr 7, 2026 ইং
ইরান–পাকিস্তান: যুদ্ধ বন্ধে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার বিস্তারিত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা বন্ধে পাকিস্তান একটি তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। আজ সোমবার এই পরিকল্পনা কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, এবং তদ্যূপরি হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার বিষয়ও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে অবগত একটি সূত্র জানিয়েছে, পাকিস্তান এ প্রস্তাব ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে উপস্থাপন করেছে। পরিকল্পনাটি দুই ধাপে কার্যকর হবে—প্রথম ধাপে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি এবং দ্বিতীয় ধাপে একটি বিস্তৃত স্থায়ী চুক্তি। প্রাথমিক বোঝাপড়া একটি সমঝোতা স্মারক হিসেবে কাঠামোবদ্ধ করা হবে, যা পাকিস্তান অনলাইনে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে চূড়ান্ত করেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসও যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারী সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, সম্ভাব্য ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতির শর্তাবলি নিয়ে আলোচনা চলছে। এটি দুই ধাপের একটি চুক্তির অংশ, যা স্থায়ীভাবে যুদ্ধ অবসানের পথ খুলে দিতে পারে।
পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির সারারাত ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হবে এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা হবে। এরপর ১৫–২০ দিন সময় ধরে বিস্তৃত চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রস্তুতি নেওয়া হবে।
এই প্রস্তাবকে আপাতত ‘ইসলামাবাদ অ্যাকর্ড’ বা ‘ইসলামাবাদ চুক্তি’ বলা হচ্ছে। চুক্তিতে হরমুজ প্রণালির জন্য একটি আঞ্চলিক কাঠামো অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যা ইসলামাবাদে সরাসরি আলোচনা করে চূড়ান্ত করা হবে।
রয়টার্সের সূত্র অনুযায়ী, চূড়ান্ত চুক্তিতে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দেবে, এবং বিনিময়ে তার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে এবং বিদেশে জব্দ হওয়া সম্পদ মুক্ত করা হবে। তবে ইরান এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি দেয়নি।
পাকিস্তান, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র–সমর্থিত অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবগুলোও ইরানের কোনো প্রতিক্রিয়া পায়নি। চীনা কর্মকর্তারাও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এই পরিকল্পনা কার্যকর হলে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুলে যাবে এবং পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধির সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর পথ প্রশস্ত হবে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বার্তা এক্সপ্রেস