
জাতীয় সংসদ বুধবার দুপুরে ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল’ পাস করেছে, যা অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা সংশোধিত অধ্যাদেশকে আইনের রূপ দিয়েছে। বিলটি পাসের মাধ্যমে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের এবং সংশ্লিষ্ট নেতাদের কার্যক্রম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত নিষিদ্ধ করার বিধান আইনে অন্তর্ভুক্ত হলো।
অন্তর্বর্তী সরকার ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করেছিল, যার মধ্যে সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ ছিল অন্যতম। আগের সন্ত্রাসবিরোধী আইনে কোনো সত্তার কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করার সুযোগ ছিল না; কেবল ব্যক্তিগত বা সত্তার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে তফসিলে তালিকাভুক্ত করার বিধান ছিল। অধ্যাদেশের মাধ্যমে সত্তার যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিধান আইনে যুক্ত করা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন। বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান আপত্তি জানিয়ে বলেন, বিলটি নিয়ে তাদের হাতে মাত্র ৩–৪ মিনিটের একটি শিট এসেছে এবং এটি স্পর্শকাতর আইন, তাই পঠন ও পর্যবেক্ষণের জন্য আরও সময় প্রয়োজন।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ব্যাখ্যা দেন, বিলের এই পর্যায়ে আর আপত্তি গ্রহণযোগ্য নয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিলটি গণহত্যাকারী সন্ত্রাসী সংগঠন নিষিদ্ধকরণ সংক্রান্ত এবং পূর্ববর্তী আইন সংশোধনের জন্য আনা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, আইন অনুসারে নির্বাচন কমিশনে ওই সংগঠনের নিবন্ধন স্থগিত রয়েছে এবং আইসিটি অ্যাক্টেও সংগঠনের বিচারে প্রাসঙ্গিক বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি হুবহু অনুমোদিত, ১৫টি সংশোধিত আকারে অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়। বাকি ২০টির মধ্যে ৪টি বাতিল এবং ১৬টি পরবর্তী সময়ে শক্তিশালী করে নতুন বিল আনার সুপারিশ করা হয়। আজ পাস হওয়া বিলটি সেই ১৫টি সংশোধিত অধ্যাদেশের একটি, তবে এখানে কোনো নতুন সংশোধনী আনা হয়নি।
সংক্ষেপে, জাতীয় সংসদে সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল পাসের মাধ্যমে আইনগতভাবে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার ক্ষমতা সরকারকে দেওয়া হলো, যা দেশের সন্ত্রাসবিরোধী নীতিকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।