প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 28, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Apr 9, 2026 ইং
ইরানের দৃষ্টিতে লেবাননের পরিস্থিতি: হামলার পর শান্তি আলোচনায় ‘অযৌক্তিক’

লেবাননে বুধবার ইসরায়েলি বাহিনীর ভয়াবহ হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্থায়ী শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা চালানো ‘অযৌক্তিক’ বলে মন্তব্য করেছে ইরান। ইসরায়েলের এই বিধ্বংসী হামলায় কয়েক শত মানুষ নিহত হওয়ার পর তেহরান পাল্টা প্রতিশোধের হুমকি দিয়েছে।
যুদ্ধবিরতি চুক্তি ও হামলার প্রেক্ষাপট
গত মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেও, লেবাননে ইসরায়েলি হামলার কারণে তা ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। আগামী শনিবার পাকিস্তানে শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন চরম অস্থির।
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, ইসরায়েল ইতিমধ্যে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ জোরদার করেছে এবং যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সম্পূর্ণ বন্ধ করার শর্ত চাপাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘এমন পরিস্থিতিতে দ্বিপক্ষীয় যুদ্ধবিরতি বা আলোচনা চালানো অযৌক্তিক।’
লেবানন ইস্যুতে অবস্থান
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় দাবি করেছে, লেবানন যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় নয়।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকবে।
হাঙ্গেরি সফররত মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, পাকিস্তানে শান্তি আলোচনায় তিনি মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন।
পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে দ্বন্দ্ব
ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করতে রাজি হয়েছে এবং মজুত করা ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের ইঙ্গিত দিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প লিখেছেন, “যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে মিলে মাটির গভীরে থাকা সব পরমাণু উপাদান সরিয়ে ফেলবে।”
তবে গালিবাফ ট্রাম্পের দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চালিয়ে যাওয়ার অধিকার রাখে।
ইরান এই পরিস্থিতি এবং লেবাননের হামলার পরবর্তী রাজনৈতিক উত্তেজনাকে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আলোচনার জন্য বড় বাধা হিসেবে দেখছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বার্তা এক্সপ্রেস