
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও ‘জুলাই বিপ্লব’-এর দাবি ঘিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান শিক্ষার্থীদের আমরণ অনশন নতুন মাত্রা পেয়েছে। অনশনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানিয়েছেন Nasir Uddin Patwari, মুখ্য সমন্বয়ক, National Citizen Party Bangladesh (এনসিপি)।
বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে Raju Memorial Sculpture-এর পাদদেশে গিয়ে অনশনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি এবং তাদের দাবির প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানান।
অনশনে তিন শিক্ষার্থী
গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ তিন দফা দাবিতে আমরণ অনশনে রয়েছেন তিন শিক্ষার্থী—
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী মো. সাদিক মুনওয়ার মুনেম
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সাকিবুর রহমান
North South University-এর মিডিয়া, কমিউনিকেশন অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগের শিক্ষার্থী শেখ মোস্তাফিজ
গত বুধবার থেকে শুরু হওয়া এই অনশন কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
‘গণভোটের রায় মানতেই হবে’
সংহতি জানিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, গণভোটের রায় নিয়ে কোনো ধরনের আপসের সুযোগ নেই। তাঁর ভাষায়, “বাংলাদেশের জনগণ সংস্কার চেয়েছে। যদি কোনো বিশেষ গোষ্ঠীকে সুবিধা দিতে গিয়ে সেই সংস্কারকে পাশ কাটানো হয়, তা জনগণ মেনে নেবে না।”
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামোকে তিনি ‘ফ্যাসিস্ট’ হিসেবে মনে করেন। তাঁর মতে, ব্যক্তি পরিবর্তন নয়, বরং কাঠামোগত পরিবর্তনই এখন জরুরি।
ক্যাম্পাসে সংহতির কর্মসূচি
অনশনরত শিক্ষার্থীদের সমর্থনে বিকেল থেকেই ক্যাম্পাসে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়। সন্ধ্যা ৭টার দিকে Dhaka University Central Students' Union (ডাকসু) আয়োজিত ‘জুলাই’ শিরোনামের একটি মূক নাটক মঞ্চস্থ হয়, যা আন্দোলনের প্রতীকী সমর্থন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
রাত সাড়ে নয়টার দিকে ঘটনাস্থলে এসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর Saifuddin Ahmed। তিনি বলেন, গণভোট একটি ‘মীমাংসিত বিষয়’ এবং এর ফলাফল বাস্তবায়ন হওয়াই স্বাভাবিক প্রত্যাশা।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সরকার গণরায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবে এবং সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে।
অনশনকারীদের শারীরিক অবস্থা
অনশন শুরুর প্রায় ২৩ ঘণ্টা পর শিক্ষার্থী সাদিক মুনওয়ার মুনেম জানান, দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকায় শারীরিক দুর্বলতা দেখা দিলেও সহপাঠীদের সংহতি তাঁদের মনোবল বাড়িয়েছে।
রাত ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে অনশনরত শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে ঘটনাস্থলে যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল টিম, যা পরিস্থিতির গুরুত্বকেই নির্দেশ করে।
পটভূমি
উল্লেখ্য, ‘জুলাই বিপ্লব’ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে গত বুধবার Raju Memorial Sculpture-এর পাদদেশে প্রথমে এককভাবে অনশনে বসেন সাদিক মুনওয়ার মুনেম। পরে সংহতি জানিয়ে তাঁর সঙ্গে যুক্ত হন আরও দুই শিক্ষার্থী।
আন্দোলনের ভবিষ্যৎ
ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের ক্রমবর্ধমান সংহতি এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সমর্থন এই আন্দোলনকে নতুন গতি দিতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। তবে দাবি বাস্তবায়নে সরকার কী পদক্ষেপ নেয়, তার ওপরই আন্দোলনের পরবর্তী গতিপথ নির্ভর করবে।